কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতেরা হলেন- বোরহান উদ্দিন (২২), মোহাম্মদ আলী (৩০), মায়ানুর আক্তার (৩৫), জিয়ানা আক্তার (১১) ও জাহানারা বেগম (৬০)।
পুলিশ জানায়, ইটবোঝাই একটি ট্রাক্টর দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজার থেকে মলয় বাজারের দিকে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রাক্টরটি শায়েস্তানগর এলাকায় পৌঁছালে নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী বাস ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাক্টর আরোহী দিনমজুর বোরহান মিয়া (২২) ও মোহাম্মদ আলী (৩২) ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন ট্রাক্টরের চালক সুলতান আহমেদ এবং দুই দিনমজুর।
নিহত দিনমজুর বোরহান উদ্দিন দাউদকান্দি উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও মোহাম্মদ আলী জামালপুর সদরের সৈয়দ আলীর ছেলে।
দাউদকান্দি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মরদেহগুলোর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো জব্দ করা হয়েছে।”
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চান্দিনার নবাবপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার যাত্রী স্থানীয় বাসরা গ্রামের গৃহবধূ মায়ানুর আক্তার (৩৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত যাত্রী ও চালকদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুরের দিকে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- জিয়ানা আক্তার (১১) ও জাহানারা বেগম (৬০)। এই দুর্ঘটনায় নিহতরা সবাই পাশের বাসরা গ্রামের বাসিন্দা।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈমা বলেন, আহত যাত্রীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কউসিক আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশাটি হাইওয়ে থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহত গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কৌশিক বলেন, “সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি আটক করা হয়েছে। নিহত ডলির লাশ পুলিশ উদ্ধার করে থানায় এনেছে। কিন্তু বাকি দুইজন মারা গেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ঘটনায় স্বজনরা আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে শুনেছি। তবে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো পুলিশ হেফাজতে আছে।”