ঢাকার বাতাস আজ ‘দুর্যোগপূর্ণ’

ঢাকার বাতাসের মান আজ সকালেও “দুর্যোগপূর্ণ”। বিশ্বের ১২৬ নগরীর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ঢাকা। বায়ুদূষণে ৪২৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে আছে ভারতের দিল্লি।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে আইকিউএয়ারের বাতাসের মানসূচকে ঢাকার স্কোর ছিল ৩০২। বায়ুর এই মানকে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২ ও ৫ ডিসেম্বর ঢাকার বায়ু ছিল দুর্যোগপূর্ণ। বায়ুমান ৩০০-এর বেশি হলেই তা দুর্যোগপূর্ণ হয়। আর পরপর তিন দিন টানা তিন ঘণ্টা করে দূষণ এ পর্যায়ে থাকলে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার রীতি আছে।

বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং সতর্ক করে।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে তাকে “মাঝারি” বা “গ্রহণযোগ্য” মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে “সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর” ধরা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা “অস্বাস্থ্যকর” বায়ু। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে “খুবই অস্বাস্থ্যকর” বায়ু ধরা হয়। ৩০১ থেকে তার ওপরের স্কোরকে “দুর্যোগপূর্ণ” বা “ঝুঁকিপূর্ণ” ধরা হয়।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো- ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।

আজ ঢাকা ও আশপাশের যে তিন স্থানে দূষণ বেশি, এর মধ্যে আছে ঢাকার পশ্চিম নাখালপাড়া রোড (৪৪১), সাভারের হেমায়েতপুর (৩৫৪) ও পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি (৩৪৪)।

সুরক্ষায় করণীয়

আজ বায়ুদূষণের যে অবস্থা, তা থেকে রক্ষা পেতে আইকিউএয়ারের পরামর্শ, ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। খোলা স্থানে ব্যায়াম করা যাবে না। আরও একটি পরামর্শ, ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হবে।