বিসিএস ‘ক্যাডার’ থেকে বাদ পড়তে পারেন শিক্ষক ও চিকিৎসকরা

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) বিদ্যমান ২৬টি ক্যাডার থেকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডার বাদ দেওয়ার সুপারিশ করবে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। সেক্ষেত্রে শিক্ষক ও চিকিৎসক নিয়োগের জন্য শিক্ষা-স্বাস্থ্যে আলাদা করে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করবে কমিশন।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জনপ্রশাসন সংস্কার বিষয়ক কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্যসচিব মো. মোখলেস উর রহমান এসব তথ্য জানান।

মোখলেস উর রহমান বলেন, “শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য এভাবে থাকার প্রয়োজন মনে করে না কমিশন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে আলাদা করে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হবে।”

কমিশন প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, “শিক্ষা ক্যাডারটা অযৌক্তিক। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা আলাদা। আমরা সুপারিশ করেছি এটা ক্যাডার করে রাখা যাবে না। একজন চোখের ডাক্তার, একজন দাঁতের ডাক্তার, একজন জেনারেল ফিজিশিয়ান; তারা কি পদোন্নতি একসঙ্গে পাচ্ছে? সেজন্য আমরা বলছি এটা ক্যাডার রাখা যাবে না, এটা আমাদের চিন্তা। এটা ক্যাডার করা অযৌক্তিক হয়েছে। এগুলোকে আলাদা করতে হবে। বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এই দুই বিভাগ ছাড়া বাকি সবাই ক্যাডার থাকবে। এটা আমাদের ধারণা।”

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান বলেন, “পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে সরে যেয়ে আমাদের জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন আলাদা হয়েছে। ঠিক এরকম আমরা স্বাস্থ্য ক্যাডারকে আলাদা করার পরামর্শ দিয়েছি এবং শিক্ষা ক্যাডারকে আলাদা করার পরামর্শ দিয়েছি। এটা হয়ে যাবে।”

তবে পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে সরকারের ওপর। যদি সরকার এই সুপারিশ গ্রহণ করে, কেবল তাহলেই বিসিএস এর বিদ্যামান ক্যাডার থেকে বাদ বা আলাদা হবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য।

এদিকে, উপসচিব ও যুগ্মসচিব পদে পরীক্ষা দিয়ে পদোন্নতি দেওয়ার সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

এ বিষয়ে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, “পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা নেবে। ৭০ নম্বর না পেলে পদোন্নতি পাবেন না। প্রতিটি স্তরে (উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত) এটি হবে না; উপসচিব ও যুগ্ম সচিব এই দুই পর্যায়ে হবে। এর পরের পর্যায়গুলোতে সরকার পদোন্নতি দিতে পারবে। পরীক্ষায় একজন কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা সবচেয়ে বেশি নম্বর পেলে তিনি উপসচিবের তালিকায় এক নম্বরে আসবেন।”

এছাড়া উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য ৫০% এবং অন্য ক্যাডার থেকে ৫০% সুপারিশ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কমিশন প্রধান। বর্তমানে উপসচিব পদে পদোন্নতিতে প্রশাসন ক্যাডার থেকে ৭৫% ও অন্য ক্যাডার থেকে ২৫% নেওয়া হয়।

চাকরির জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রথা উঠিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেবে উল্লেখ করে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী জানান, ফরিদপুর এবং কুমিল্লাকে বিভাগ করার সুপারিশ করবে সংস্কার কমিশন।