বিদেশের বন্দরে বহিঃনোঙ্গরে অবস্থানের সময় সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৯ বাংলাদেশি নাবিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন নৌ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) নৌ পরিবহন অধিপ্তরের মহাপরিচালক কমেডার মোহাম্মদ মাকসুদ আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
পলাতক নাবিকদের ব্যাপারে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে কাছাকাছি থানায় অথবা নৌপরিবহন অধিদপ্তরে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পলাতক নাবিকদের গ্যারান্টারদের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, তিনটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি মেঘনা অ্যাডভেঞ্চার, এমভি মেঘনা প্রিন্সেস এবং এমভি মেঘনা ক্রাউনসহ ১৩টি জাহাজ থেকে ১৯ বাংলাদেশি নাবিক পালিয়ে যান। বাংলাদেশের পতাকাবাহী তিনটি জাহাজের মালিকা মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ।
এসব নাবিক আমেরিকা, ব্রাজিল, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বন্দর থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তাদের এই পালিয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিপিং লাইনকে বিপুল অংকের টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে এবং পাশাপাশি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি নাবিকদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
নৌ পরিবহন অধিপ্তরের মহাপরিচালক সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই ১৯ জন নাবিক গত তিন বছরে বিভিন্ন দেশের বন্দরে জাহাজ থেকে পালিয়ে গেছেন। বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি এবং বাংলাদেশি নাবিকদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। পর্যায়ক্রমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, নাবিকদের একটি অংশ আমেরিকা, ইউরোপ ও দুবাইসহ উন্নত দেশে পালিয়ে যায়। আর তারা আগে থেকেই পালানোর বিষয়টি নির্ধারণ করে রাখে। নাবিক হিসেবে কয়েক বছর চাকরির পর বিশ্বস্ততা অর্জন করে উন্নত দেশের বন্দরে যাওয়ার ভিসা যখন পেয়ে যায় তখনই তারা সুযোগ বুঝে জাহাজ থেকে পালিয়ে যায়। বেশিরভাগ সময় তারা বন্দরের বহিঃনোঙ্গর থেকে বোটে করে পালিয়ে যায়। বন্দরের ভেতরে প্রবেশের পর অনেকে সেদেশের ভেতরে প্রবেশের অস্থায়ী অনুমোদনও পেয়ে থাকে। কিন্তু প্রবেশের পর আর জাহাজে ফিরে আসে না। ফিরে না আসায় দেশের নাবিকদের চাকরির বাজার ছোট হয়ে আসছে। ফলে বহির্বিশ্বের শিপিং কোম্পানিগুলো বাংলাদেশি নাবিক নিয়োগ করতে চায় না।