রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্যাম্পাস থেকে শিমুল শিহাব নামে রাজশাহী কলেজের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান বলেন, “ক্যাম্পাস থেকে রাত ১১টার দিকে একটি ছেলেকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনার কথা বলে লুকানো হচ্ছিল। পরে জেরার মুখে মারামারি করে মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। তাকে ‘ফিজিক্যাল অ্যাসল্টেড ব্রট ডেথ’ হিসেবে পেয়েছেন। শরীরের বাইরের অংশে বড় কোনো ক্ষতের দাগ পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
নিহত শিমুল শিহাব রাজশাহী কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তবে শিমুল ঠিক কীভাবে মারা গেছেন, সেটি এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান দাবি করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘ক্যাম্পাসের ভেতরে শিমুল তার মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে সায়েন্স ভবনের দিকে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে প্রক্টর দপ্তরের গাড়ি দেখে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে যান। এসময় ওই যুবক রাস্তায় পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। এরপর রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক সাজিদ হাফিজ বলেন, ‘‘যখন ওই ছেলেকে নিয়ে আসে, তখন তার শরীরে কোনো রকমের আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে শরীরে ধুলাবালি লেগে ছিল। ওই সময় রোগীর পালস বা বিপি কোনোটাই ছিল না। পরে তাকে আমরা রামেক হাসপাতালে রেফার করে দিই।’’
এ বিষয়ে নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, “নিহতের পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তারা মৌখিকভাবে দাবি করেছেন, তাকে মারধর করে মারা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তারা মামলা করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। নিহতের মরদেহে কোনো মারধর, ছেড়া-ফাঁটা কিংবা ক্ষতের দাগ পাওয়া যায়নি। তাই সুনির্দিষ্টভাবে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।”