অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এমন বিষয়বস্তু (কনটেন্ট) ঠেকাতে অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশের আগে পাণ্ডুলিপিতে পুলিশের অনুমোদন লাগবে- এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা পরামর্শ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “উসকানিমূলক বই প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বাংলা একাডেমিকে অনুরোধ করা হয়েছিল।”
শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ও অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন নজরুল ইসলাম।
সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা এবার বাংলা একাডেমিকে সাজেস্ট করছি, আগামীতে নতুন যে বইগুলো প্রকাশিত হবে তার পাণ্ডুলিপি আগেই যেন বাংলা একাডেমিকে জমা দেওয়া হয়। তারা এটা যাচাই-বাছাই করবে, পড়ে দেখবে যে এমন কোনো কন্টেন্ট যেন ছাপানো না হয়, যেটা আমাদের সোশাল লাইফকে ডিজরাপ্ট করে, আমাদের কমিউনাল হারমনিকে ডিজরাপ্ট করে, আমাদের দেশদ্রোহী কোনো বক্তব্য বা প্রকাশনা বা সরকারকে ডিস্টাবিলাইজ (অস্থির) করে- এরকম কোনো ধরনের প্রকাশনা যেন মেলায় না আসে। এটা আমরা রিকোয়েস্ট করেছি বাংলা একাডেমিকে।”
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবিতা পরিষদের অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, বই ছাপানোর আগে বাংলা একাডেমি বা পুলিশকে পড়তে দেওয়া উচিত। এটা অবিশ্বাস্য, এটা হাস্যকর। আমাদের সরকারের নীতিমালার আশপাশেই নেই। আমাদের সরকার স্পষ্ট বিশ্বাস করে মত প্রকাশের স্বাধীনতায়। সেটা যদি আমাকে গালমন্দ করে, এতেও কিছু যায় আসে না। আমরা কোনো মতপ্রকাশে সেন্সরশিপে বিশ্বাস করি না।”
এই বিষয়ে ডিএমপি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, “গত ৩১ জানুয়ারি বইমেলা উপলক্ষে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করা হয়। সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের আলোকে মেলায় প্রকাশিত বই যাচাই-বাছাই সম্পর্কে বাংলা একাডেমির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে বা কোনো উসকানিমূলক বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বাংলা একাডেমিকে অনুরোধ করা হয়। প্রকাশিতব্য বই আগামীতে পুলিশ কর্তৃক ভেটিং বা অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো পরামর্শ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি বা বলা হয়নি।”
ডিএমপি বলছে, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, লেখনীর মত সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে আমরা সবসময় উৎসাহ দিই। মুক্ত মনের চর্চা ও বিকাশের পরিবেশকে আমরা স্বাগত জানাই। এ বিষয়ে “অহেতুক” ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচার হতে বিরত থাকার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।