আখেরি মোনাজাত চলাকালীন সময় একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হঠাৎ নিচে পড়ে গেলে আতঙ্ক-হুড়োহুড়িতে অন্তত ৪০ জন মুসল্লি আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ১১ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় ৯টা ৩৫ মিনিটে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা জুবায়ের।
ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষভাবে স্থাপিত মোনাজাত মঞ্চ থেকে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ মোনাজাতে আনুমানিক ২০ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা।
হুড়োহুড়িতে আহতরা হলেন- ঢাকার দক্ষিণখানের আবুল কালাম (৬০), রামপুরার আব্দুল করিম (২৮), বাড্ডার সাইদুল ইসলাম (৩৮), নারায়ণগঞ্জের আল-আমীন (৩২), আনোয়ার হোসেন (৪৩), আমজাদ (৩০), টঙ্গীর ওবায়দুল্লাহ (৫২), কবির হোসেন (৪৬), নাজিম উদ্দিন (৪০), বাসেত (১৩), খোকন (৪৩), মোবিন (১৮), আয়নাল হক (২২), জহুরুল (২৮), টঙ্গীর পাগাড় এলাকার জাফর উদ্দিন (৩১), আরিচপুরের কবির হোসেন (৩০), আউচপাড়ার মকবুল হোসেন (৩৬), আব্দুল্লাহপুরের রায়হান (২৭), সোহাগ বানু (৬০), গাজীপুরের জয়নাল (৫৪), কাওসারুল আলম (২৮), গাজীপুরের তারগাছ এলাকার রাতুল (১৮), জয়দবেপুরের জয়নাল আবদেীন (২৪), জয়দবেপুর চৌরাস্তা এলাকার মোশারফ (৩০), মাছিমপুর এলাকার কোরবান আলী (২৫), হবিগঞ্জেরে সিজিল (৬০), টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সাইফুল ইসলাম (৩০), সালামত (১৮), মোস্তাকিম (১০), গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনার আমজাদ সরকারের ছেলে জুয়েল (২৫), সিলেটের গোলাপগঞ্জের জহুরুল ইসলাম (৩১), ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার আলী নেওয়াজ (৩৮), নাটোরের আফতাব উদ্দিন (৪৩), নাটোরের মামুন হোসেন (২৯), নবাবজঞ্জের আমান (২২)।
আহতদের মধ্যে টঙ্গীর পাগাড় এলাকার জাফর উদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি মোনাজাত করছিলাম। হঠাৎ সামনে হৈচৈ শুরু হলে মুসুল্লিরা ছুটোছুটি করতে থাকেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়ে আমি আহত হই।”
অপর আহত মকবুল হোসেন বলেন, “আমি টিনশেড মসজিদের ভেতরে মোনাজাত ধরি। হঠাৎ দেখি চারপাশে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়েছে। দৌড়ানোর সময় পরে গেলে মুসুল্লিরা আমার ওপর দিয়ে দৌড়ে গেলে আহত হই।”
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন এলাকার আয়রন মার্কেটের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন (৫০) বলেন, “এমন পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করলে আমিও পালানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ধাক্কায় পড়ে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পাই।”
টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিল বিন সিরাজ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এখন পর্যন্ত ৪০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।”
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ড্রোন আতঙ্কে ছুটোছুটি করে দৌড়াতে থাকলে পড়ে গিয়ে আহতের ঘটনা ঘটেছে।”