ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সেই ভবনের পানি সেচ শেষে যা জানালো ফায়ার সার্ভিস

রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির নির্মাণাধীন একটি ভবনের বেজমেন্টে “আয়নাঘর” বা গোপন বন্দিশালা আছে কি-না এমন সন্দেহে সেখানে জমে থাকা পানি সরানোর পর সন্দেহজনক কিছুই পায়নি ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের মোহাম্মদপুর জোনের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা।

গত বুধবার রাতে বাড়িটিতে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এক্সাকেভটের দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজরিত বাড়িটি। এরপর বাড়িটির মধ্যে নির্মাণাধীণ একটি ভবনকে ঘিরে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ভবনটির বেজমেন্টে পানি জমা ছিল। সেখানে “আয়নাঘর” রয়েছে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পোস্ট করেন। এরপর সেই পানি সরানোর উদ্যোগ নেয় ফায়ার সার্ভিস।

রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল দশটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মোহাম্মদপুর স্টেশনের টিম সেখানে যায় পানি নিষ্কাশনের কাজে। তারা বাড়িটির বেজমেন্টে জমে থাকা পানি পাম্পের মাধ্যমে সরানোর কাজ শুরু করে।

কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর দুপুর দেড়টায় পুরোপুরি পানি নিষ্কাশনের কাজ শেষ হয় বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

তিনি বিবিসি বাংলাকে জানান, ওই ভবনের বেজমেন্টে পানি অপসারণ করে “আয়নাঘর” বা তেমন কিছুর অস্তিত্ব পায়নি ফায়ার সার্ভিস।

মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমরা পাম্পের মাধ্যমে পানি পাশের লেকে ফেলে পুরোপুরি সেচ করি। তবে সেখানে আমরা কিছু পাইনি। এরপর আমরা সেখান থেকে চলে এসেছি।”

এদিকে, গুঁড়িয়ে দেওয়া এই বাড়িটিকে ঘিরে এখনও রয়েছে উৎসুক মানুষের ভিড়। এদিনও ধংসস্তুপের মধ্য থেকে ছিন্নমূল মানুষদের অনেককে রড ইটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ির সামনের রাস্তায় বসেছে আনারস, পেয়ারা, ফুচকা, পানিপুরি, পাঁপড়, আইসক্রিম, পানি, বাদাম, ছোলা, আখের রস ও চা-সিগারেটের ভ্রাম্যমাণ দোকান।