ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকার ৭ নম্বর সেক্টরে। মার্কেট থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন এক দম্পতি। এ সময় মোটরসাইকেলে করে যাওয়া স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে হর্ন বাজানো নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তিকে রামদা দিয়ে কোপাতে আসে হামলাকারীরা।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে এক ব্যক্তিকে রামদা দিয়ে আঘাত করছে। এ সময় নিজের জীবন বাজি রেখে স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে সামনে দাঁড়ান তার স্ত্রী। এ সময় ওই নারীকে হাত জোড় করে স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাইতে দেখা যায়।
ঘটনার বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, মোটরসাইকেলে উচ্চ শব্দ করে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একটি শিশুকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পাশ দিয়ে আরেকটি মোটরসাইকেলে যাওয়া দম্পতি প্রতিবাদ করে। এরপর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাদের লোকবল ডেকে দম্পতির ওপর রামদা দিয়ে হামলা চালায়।
এ সময় ওই নারীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা দুইজনকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
তারা হলেন মো. মোবারক হোসেন (২৫) ও রবি রায় (২২)। এর মধ্যে মোবারকের বাড়ি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায়। সে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় ভাড়া থাকে। আর রবি রায়ের বাড়ি টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার এলাকায়।
এদিকে উত্তরার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সন্ধ্যায় উত্তরা ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাইয়ে জড়িত কিশোর গ্যাং সদস্যরা। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের সঙ্গে ঝামেলা করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।