“জনগণের নির্বাচনী ভাবনা: ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৫” শীর্ষক ইনোভিশন কনসাল্টিং পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৫৯% ভোটার ২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছেন। জরিপটি দেশের ৬৪ জেলার ১০,৬৯৬ ভোটারের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, ৩২% ভোটার ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন চান। আর ২৭% ডিসেম্বরে ভোট আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। মাত্র ১১% ভোটার নির্বাচন ২০২৬ সালের পরে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়াও ১৬% এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের অর্ধেক জানিয়েছেন যে, তারা গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেননি। এর মধ্যে ৪০% কখনোই ভোট দেননি, আর মাত্র ১০% নতুন ভোটার। এই ভোটাররা অতীতের নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা প্রাধান্য পাবে
আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জরিপে অংশ নেওয়া ৩৮% ভোটার জানিয়েছেন, তারা প্রার্থীর পূর্ববর্তী কার্যক্রম বিবেচনা করেই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে, মাত্র ২২% ভোটার বলেছেন যে, তারা সবসময় একই রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। অর্থাৎ, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার দলীয় আনুগত্যের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
এছাড়া, ১৪% ভোটার জানিয়েছেন যে তারা বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেনা। আর ৯% ভোটার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বা বিষয়টিকে প্রাসঙ্গিক মনে করেননি।
ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলো
জরিপে উঠে এসেছে, ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রার্থীদের তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতি চারজনের একজন (২২%) জানিয়েছেন, প্রার্থীদের স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম তাদের ভোটের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। এছাড়া, ২১% ভোটার বলেছেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
এছাড়াও, ৪৭% ভোটার জানিয়েছেন যে পরিবারের সদস্যরা তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে মূল ভূমিকা পালন করেন। আর ২০% ভোটার প্রতিবেশীদের মতামতকেও গুরুত্ব দেন।
গণমাধ্যমের প্রভাব
১৮% ভোটার জানিয়েছেন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- যেমন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব এবং টিকটক থেকে পাওয়া খবরের ওপর নির্ভর করেন। তবে মূলধারার গণমাধ্যমও এখনও গুরুত্বপূর্ণ; ১৫% ভোটার টেলিভিশন সংবাদকে তাদের প্রধান তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রজন্মগত পরিবর্তন ঘটছে, যেখানে তরুণ ভোটাররা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
অনিশ্চিত ভোটারদের মনোভাব
জরিপে দেখা গেছে, অনিশ্চিত ভোটারদের মধ্যে ২৯% এখনও কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেননি। তবে ৪৯% ভোটার জানিয়েছেন যে, তারা প্রার্থীদের সম্পর্কে আরও জানার পর সিদ্ধান্ত নেবেন। আর ৩৪% বলেছেন যে, তারা নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এই অনিশ্চিত ভোটাররা আসন্ন নির্বাচনে ভোটের ব্যবধান ও ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।