অপহরণের পর কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে অভিযোগে খুলনা মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহাবুব হাসান পিয়ারু, জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা ইমন মোল্লাসহ ৫ জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। একইসঙ্গে অপহৃত ব্যবসায়ী ও গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা ইমন মোল্লা, দৈনিক প্রবর্তন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক জিয়াউস সাদাত, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহাবুব হাসান পিয়ারু, ইমনের সহযোগি জয় হাসান এবং সাকির রহমান।
ইমন মোল্লা জাতীয় নাগরিক কমিটির সোনাডাঙ্গা থানা কমিটির সদস্য এবং সাবেক যুবদল নেতা পিয়ারু খুলনা মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপহৃত আ’লীগ নেতাকে বসুপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক মো. তৈমুর ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী নুর আলমের ছেলে খুলনার বসুপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। সেই সুবাদে নূর আলম খুলনায় অবস্থান করতেন। শুক্রবার রাতে ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়। তাকে বসুপাড়ার একটি বাড়িতে রেখে ছেলের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নুর আলমের ছেলে বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশকে জানায়। পুলিশের পরিকল্পনায় অপহরণকারী দলের সদস্যরা মুক্তিপণ নিতে নগরীর ময়লাপোতা হোটেল গ্রান্ড প্লাসিডের সামনে আসলে ইমন মোল্লাকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে বাকীদের আটক করে পুলিশ। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ অপহৃত নুর আলমকে উদ্ধার করে।
গোয়েন্দা পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, এর আগেও ইমন মোল্লা জাতীয় নাগরিক কমিটি ও ছাত্র সমন্বয়ক পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে। যুবদল নেতা পিয়ারুর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
অপহৃত ওই পাঁচজনকে ভুক্তভোগীর ছেলের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।