বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে বের হবে “শোভাযাত্রা”। প্রায় তিন যুগ ধরে এটি “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নামে চলে আসছে। তবে এ বছর শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর নতুন নাম করা হয়েছে “বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা”। এই নামে এবার বর্ষবরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
তবে ইউনেস্কোর অপরিমেয় বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নাম পরিবর্তনের “যথার্থ কারণ” জানানোর দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
তারা বলছেন, চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের মতামত ছাড়াই কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার সঙ্গে তারা একমত নয়।
রববিরা (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে চারুকলা অনুষদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন চারুকলা অনুষদের একদল শিক্ষার্থী। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে, চারুকলা অনুষদের প্রিন্ট মেকিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহারা নাজিফা বলেন, “ঐতিহ্যগতভাবে চারুকলার শিক্ষাক-শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এরইমধ্যে বিভিন্ন ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। এবারও বৈশাখ শেকলমুক্ত নয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা হবে। আমরা এ সিদ্ধান্ত সমর্থন করছি না। চারুকলার শিক্ষার্থীদের মতামত ছাড়া এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
শোভাযাত্রার প্রস্তুতির মধ্যে চারুকলায় দুটি মোটিফে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।
বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপনে চারুকলার আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে মঙ্গল শব্দটি বাদ দিয়ে ‘বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাহারা নাজিফা বলেন, “১৯৮৯ সাল থেকে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এখনে এভাবে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছি আমরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা এড়াতে নীতিমালা করার দাবি করছি।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারও মঙ্গল শোভাযাত্রাকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে” ব্যবহার করেছে অভিযোগ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, “শোভাযাত্রা বাতিল হোক, তা আমরা চাই না। আমরা চাই, সবাইকে নিয়ে এ উৎসব হোক। কিন্তু ‘মঙ্গল’ বাদ দেওয়ার একটি ভ্যালিড কারণ দেখান আমাদের।"
উল্লেখ্য, চারুকলা ১৯৮৯ সাল থেকে পহেলা বৈশাখে এই শোভাযাত্রা করে আসছে। শুরুতে এর নাম ছিল ‘‘আনন্দ শোভাযাত্রা”। পরবর্তী সময়ে নব্বইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে অমঙ্গলকে দূর করে মঙ্গলের আহ্বান জানিয়ে শোভাযাত্রার নামকরণ হয় ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা”।
জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর এই শোভাযাত্রাকে বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।