আনন্দ শোভাযাত্রার মোটিফশিল্পীর বাড়ি পুড়িয়েছে দুর্বৃত্তরা

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রার জন্য মোটিফ তৈরি করা শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের মানিকগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র তার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত একটা নাগাদ সদর উপজেলার গড়পাড়া ঘোষের বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে মানবেন্দ্রের পরিবার। আগুনে তার একটি ঘর পুড়ে গেছে। 

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে বাড়ির দক্ষিণ পাশে টিনশেডের একটি ঘরে আগুন জ্বলতে দেখেন পরিবারের এক সদস্য। এরপর বাড়ির লোকজন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। রাত চারটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলায় বর্ষবরণের শোভাযাত্রার জন্য বিভিন্ন মোটিফ তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন মানবেন্দ্র ঘোষ। তিনি দাবি করেছেন, তিনি শুধু বাঘের মোটিফ তৈরি করেছেন।

এ বিষয়ে মানবেন্দ্র বলেন, “আমিসহ আমার পরিবার জীবনের নিরাপত্তায় ভুগছি। এই মুহূর্তে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

তিনি জানান, দুই-তিনদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এসব ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।  আর মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা তার বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। অগ্নিকাণ্ডে তার শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত নিজের তৈরি বিভিন্ন মূল্যবান চিত্রকর্ম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

পরিবারে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া বাড়িটি ছিল আধাপাকা টিনের ঘর। সেখানে মানবেন্দ্রর শিল্পকর্মের যাবতীয় সরঞ্জামাদি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন অবশিষ্ট কিছু নেই।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ বলেন, “এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

এদিকে, এ ঘটনার পর ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে উল্লেখ করে লিখেছেন, “শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে যারা হামলা করেছে তাদের প্রত্যেককে ধরার জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে। তিনি পুলিশের আইজিকে পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন।”

তিনি লিখেন, “গত কয়েকদিন জুলাইয়ে বিতাড়িত আওয়ামী লীগ অনলাইনে শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষকে আক্রমণের উস্কানি দিচ্ছিল, তাদের ভাষ্যে ‘হাসিনার এফিজি বানানোর অপরাধে’! এদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।”

ফারুকী আরও লিখেন, “পাহাড় থেকে সমতল জুড়ে বাংলাদেশ মাত্রই এক অভুতপূর্ব মৈত্রীর উৎসব শেষ করলো। এক অন্য রকম আবেশ সবার মনে। আর এই সময়ই ওরা আক্রমণ করে এটা মনে করিয়ে দিলো জুলাই চলমান। কিন্তু ওরা জানেনা বাংলাদেশের মানুষ জুলাই বুকে নিয়েই সামনে আগাচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণের ঐক্যের সামনে এরা তুচ্ছ।”