পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে গত সপ্তাহে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে, তাতে “বাংলাদেশি দুষ্কৃতকারী” জড়িত থাকার অভিযোগ করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। একইসঙ্গে ওই সহিংসতার জন্য ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বিজেপিকেও দায়ী করেছেন তিনি।
তবে এসব দাবি নাকচ করে বাংলাদেশ বলেছে, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “মুর্শিদাবাদের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বাংলাদেশকে জড়ানোর যেকোনো চেষ্টাকে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের সহিংস হামলায় মুসলমানদের প্রাণহানি ও সম্পদহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে নিন্দা জানাই।”
প্রেস সচিব বলেন, “সংখ্যালঘু মুসলিমদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকার আহ্বান জানাচ্ছে।”
এদিকে, গত বুধবার কলকাতায় নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে পশ্চিমবঙ্গের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি জানেন না? আপনি ইউনূসের সঙ্গে গোপন মিটিং করুন, চুক্তি করুন। দেশের ভালো হলে খুশি হব। কিন্তু আপনাদের প্ল্যানিংটা কী? কোনো এজেন্সির মাধ্যমে ওখান থেকে লোক নিয়ে এসে দাঙ্গা করা?
বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত থাকার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী যে অভিযোগ তুলেছেন, তার জবাবে বিজেপি বলছে, মুর্শিদাবাদে সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ যতজনকে গ্রেপ্তার করেছে তার মধ্যে কতজন বাংলাদেশি?
দলটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্যতম মুখপাত্র কেয়া ঘোষ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “২০০-এর বেশি মানুষ তো গ্রেপ্তার হয়েছে পুলিশের হাতে। এদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি ধরা পড়েছে, প্রকাশ করুন মুখ্যমন্ত্রী।”
প্রসঙ্গত, সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়ও গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ চলছে। কলকাতায়ও বিক্ষোভ হয়েছে। গত সপ্তাহে মঙ্গল ও বুধবার মুর্শিদাবাদের রঘুনাথপুর ও সুতি থানা এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের বিক্ষোভের পরে এই দুটি থানা এলাকায় পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ওই এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এক দিন পর শুক্রবার আবার পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে। শনিবার মুর্শিদাবাদে তিনজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে বিএসএফ নামানো হয়।