চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষিত সময়ের মধ্যে মূল ক্যাম্পাসে ফেরার দাবি পূরণ না হওয়ায় আমরণ অনশনে বসেছেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে, দুপুরে এক দফা দাবিতে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন।
অনশনস্থল থেকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, “হয় মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তর, নয় অনশনে মৃত্যু।”
চারুকলা ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী খন্দকার মাসরুল আল ফাহিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেটা ভঙ্গ করেছে। ১ এপ্রিল থেকে আমাদের মূল ক্যাম্পাসে ক্লাস করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। আমরা সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছেন, চারুকলা প্রশাসন সহযোগিতা না করায় এ বিষয়ে নাকি তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এখন আমরা আমরণ অনশনে বসেছি। সিন্ডিকেট থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়ায় আছে। আমরা মিটিংয়ে বসেছি। দ্রুতই সিদ্ধান্ত আসবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর চারুকলার শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়াসহ ২২ দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। টানা ৮২ দিন আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরলেও সাতদিনের আলটিমেটাম শেষে ৩১ জানুয়ারি ফের আন্দোলনের নামে। এরমধ্যে ২ ফেব্রুয়ারি চারুকলা ইনস্টিটিউট বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই বছরের ১০ ডিসেম্বর আবারও আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চারুকলা ইনস্টিটিউটকে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের ঘোষণা দেয়।