শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের ১৮ জন চাকরিচ্যুত

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের রূপপুর প্রকল্প ও গ্রিন সিটি বহুতল আবাসিক এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ওই ব্যক্তিরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।

রবিবার (১১ মে) দুপুরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

রূপপুর প্রকল্প পরিচালক ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. জাহেদুল হাছানের সই করা এক আদেশে এই অব্যাহতির কথা জানানো হয়। এই আদেশের বিষয়ে ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যেককে শনিবার রাতে ই-মেইল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “চাকরিবিধি না মানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানির ১৮ জনকে অব্যাহতিপত্র প্রদান করা হয়েছে।”

অব্যাহতিপত্রে বলা হয়, এনপিসিবিএল কোম্পানিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এনপিসিবিএলের চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আপনারা তিন মাসের বেতন-ভাতা পাবেন। একইসঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রুপপুর প্রকল্প এলাকায় ও গ্রিনসিটিতে প্রবেশ বন্ধে অনুরোধ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহিত করা হয়েছে।” 

অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হলেন- ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট হাসমত আলী (প্রধান কার্যালয়), উর্ধ্বতন সহকারী ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম, আবু রায়হান, রফিকুল হাসান, আয়নাল হোসেন, নাঈম আল সাকিব, আবু সাঈদ, এ কে এম আব্দুল আল আমিন, শাহ ইখতিয়ার আলম, ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল আল নোমান, আসিফ খান, মুহাম্মদ ইমামুল আরেফিন, ইকরাম, রুহুল আমিন, উপ-সহকারী ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন, রুবেল হোসেন এবং টেকনিশিয়ান ফিরোজ আহমেদ।

এর মধ্যে উপ-সহকারী ব্যবস্থাপক রুবেল হোসেন জানান, এমডি ড. জাহেদুল হাছানের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৮ এপ্রিল থেকে আন্দোলন শুরু করেন। ৬ মে ঈশ্বরদী শহরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। পরদিন ৭ মে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ভেতরে কোম্পানির অফিসে তারা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেন।