দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহিদ ঈদগাহ ময়দানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদ-উল-আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শনিবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান ঈদের জামাতে ইমামতি করেন। এবারও লাখো মুসল্লি ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করেন।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফত হোসাইনসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ নামাজে অংশ নেন।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ, ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমান এবং ১৯৭১ ও ২৪-এর শহিদ ও আহতদের জন্য দোয়া করা হয়।
ঈদ-উল-আজহার নামাজে অংশ নেওয়ার জন্য দিনাজপুর ছাড়াও আশেপাশের জেলা ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড়, নীলফামারী, জয়পুরহাট, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসেন।
এদিন পুরো ঈদগাহ জুড়ে নেওয়া হয়েছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেন।
সকাল থেকেই এই মাঠের প্রবেশদ্বারগুলো খুলে দেওয়া হয়। মাঠে নামাজ আদায় করতে আসা প্রতিটি মুসল্লিকে আর্চ ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে প্রবেশ করানো হয়। পুরো মাঠটি পর্যবেক্ষণের জন্য ছিল ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবস্থা। এছাড়াও প্রতিটি কাতারে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিল। মাঠে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিল র্যাব, পুলিশ, আনসারসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোর-এ-শহিদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ২০১৭ সালে নির্মিত ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ঈদগাহ মাঠটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও মনোরম কৃতির সৌন্দর্য ও নান্দনিক হিসেবে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এই ৫০ গম্বুজের দুই ধারে ৬০ ফুট করে ২টি মিনার, মাঝের দুটি মিনার ৫০ ফুট করে।
ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাব (যেখানে ইমাম দাঁড়াবেন) তার উচ্চতা ৪৭ ফিট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ। এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক্স দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং।