ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করতে নানিবাড়ি বেড়াতে এসে লাশ হয়ে ফিরলো সাদিয়া আক্তার (১১) আর সাদ্দাম হোসেন (৬) নামের দুই শিশু। দুপুরের তীব্র গরমের কারণে নাগর নদীতে নেমেছিল তারা গোসল করতে। হঠাৎ পানির স্রোতে হারিয়ে যায় দুই ভাই-বোন।
শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ছোট ভাই সাদ্দামের মরদেহ পাওয়া যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার বোন সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয় ।
এরও আগে, বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাটি ঘটে জেলার হরিপুর উপজেলার গেদুড়া ও আমগাঁও ইউনিয়নের সংযোগস্থল স্লুইসগেট এলাকায়।
হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, মৃত দুই শিশুর বাবা আমিনুল ইসলাম রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পরশুরাম জলছত্র গ্রামের বাসিন্দা। ছুটি পেয়ে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন শ্বশুরবাড়ি, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের আমগাঁও গ্রামে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, “তীব্র গরমে আমরা সবাই নাগর নদীতে গোসল করতে নামি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি সাদিয়া আর সাদ্দাম স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। চিৎকার করে ওদের ধরতে ছুটলাম, কিন্তু পারলাম না।” চোখে পানি আর কণ্ঠে কাঁপন—কথা বলছিলেন আর বারবার মাথা নিচু করছিলেন তিনি।
এদিকে, বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন নানি আছমা বেগম। বলছিলেন, “সাদিয়া বলেছিল—নানি, আমি তোদের সঙ্গেই থাকব। কে জানত এটাই তার শেষ কথা।”
সাদিয়ার মরদেহ পাওয়া গেছে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে নদীর মানিকখাড়ি অংশে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খোঁজাখুঁজি চলে। নদীর পাড়ে ছুটে আসে মানুষ। কেউ নেমে পড়েন পানিতে, কেউ পাথরের ফাঁকে ফাঁকে খুঁজতে থাকেন সেই ছোট ছোট হাত দুটো। বৃহস্পতিবার না পাওয়া গেলেও শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে একই এলাকায় ভেসে ওঠে সাদ্দামের প্রাণহীন দেহ।
স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক শাহাবুদ্দিন বলেন, “স্লুইসগেট এলাকা খুবই বিপজ্জনক। প্রতিবছর এখানে কেউ না কেউ ডুবে যায়। অথচ কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা।”
একই ক্ষোভ জানালেন স্থানীয় বাসিন্দা মুনির। তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি তিনজন গোসল করছে। হঠাৎ চিৎকার শুনে দৌড়ে যাই। মেয়েটির মৃতদেহ তো পাওয়া গেল, ছেলেটির খোঁজ এখনও নেই।”
হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে রংপুর থেকে ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়। নদীর যে অংশে তারা গোসল করছিল, সেটি ছিল গভীর ও খালের মতো। সম্ভবত সেখানে নেমেই ডুবে যায় দুই ভাই-বোন। গতকাল বিকেলে সাদিয়ার এবং আজ দুপুরে সাদ্দামের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়।”