গোপালগঞ্জে চার যানবাহনের সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নৌ বাহিনীর এক কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ সময় প্রায় দুই ঘণ্টা ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
গোপালগঞ্জ গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. মাকসুদুর রহমান মোরাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। দায়ী যানবাহনগুলো জব্দ করা হয়েছে।”
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের এটিএসআই রফিকুল ইসলাম ও আরমান পরিবহনের চালকের সহকারী সেলিম হোসেন ব্যাপারী। তিনি খুলনার সোনাডাঙ্গার দেবেনবাবু রোডের বাসিন্দা।
আহত ব্যক্তিদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
মো. মাকসুদুর রহমান মোরাদ জানান, পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দাড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় আরমান পরিবহনের একটি বাস। সঙ্গে সঙ্গে এসপি গ্রিন লাইনের ওপর একটি যাত্রীবাহী বাসেরও ধাক্কা লাগে। এ ঘটনায় আরমান পরিবহনের হেল্পার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খবর পেয়ে ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী নিউ বলেশ্বর পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস ও ট্রাককে ধাক্কা দিলে চতুর্মুখী সংঘর্ষ হয়। এ সময় উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের এটিএসআই রফিকুল ইসলামসহ ৩ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উত্তম রায় বলেন, “প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে বলেশ্বর পরিবহনের চালক ইব্রাহিম ও সহকারী রোহানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”