ডেঙ্গুর হটস্পট দাউদকান্দিতে ৫ দিনে আক্রান্ত ১,১০০ জন

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ১৯ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত পাঁচদিনে ১,১০০ ব্যক্তির শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। কুমিল্লায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলছে। তবে আক্রান্তের প্রায় ৮০% রোগী দাউদকান্দিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাউদকান্দির ডেঙ্গু সংক্রমণ ধীরে ধীরে মহামারির দিকে ধাবিত হচ্ছে। ভয়াবহ আকারে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকায় ইতিমধ্যে দাউদকান্দি পৌরসভাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (২৩ জুন) স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দাউদকান্দিতে নতুন করে আরও ৯৮ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

এ নিয়ে উপজেলায় ১,৮০০ ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন নারী ও একজন পুরুষ।

জানুয়ারি থেকে গত ১৮ জুন পর্যন্ত এ উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী ছিল ৭০০ জন। মৃত্যু হয়েছিল তিনজন নারীর।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শুরু হলেও ঈদ-উল-আজহার ছুটিতে তা ভয়াবহ আকারে রূপ নেয়। প্রতিদিনই উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন নতুন নতুন রোগী।

স্থানীয়রা বলছেন, পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে। ঈদের ছুটিতে পৌর প্রশাসনের উদাসীনতায় নিরবে ডেঙ্গু বিস্তার লাভ করে। অপরিষ্কার ড্রেন ও নালায় এডিস মশা দ্রুত জন্ম নেয়। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া মশার কামড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু এবং পৌর এলাকার দোনারচর, সবজিকান্দিসহ আশপাশের এলাকাগুলোকে ডেঙ্গু ইতিমধ্যে মহামারি আকার ধারণ করেছে।

দোনারচর এলাকার লিয়াকত আলী নামে এক বাসিন্দা জানান, তার পরিবারের ১০ সদস্যের মধ্যে নয়জনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। তিনিও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরিবারের শিশু থেকে বৃদ্ধ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী নিয়ে দৌড়াদৌড়ি ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।

সাহাপাড়ার বাসিন্দা হেদায়েত উল্লাহ বলেন, “প্রতিটি ঘরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে, মারাও যাচ্ছে মানুষ। আক্রান্তদের পৌর এলাকা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৮-১০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে গৌরীপুরে গিয়ে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। দূরের পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ অর্থকষ্টে হিমশিম খাচ্ছেন। আমার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই লক্ষণ বা উপসর্গ থাকলেও ডেঙ্গু পরীক্ষা না করে বাড়িতেই থাকছি।”

এদিকে, চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা না নেওয়ায় তাদের কাছ থেকে সংক্রমণের হার বাড়ছে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রতিদিনই ১০০ ছুঁই ছুঁই রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিরোধে পৌরসভা হটস্পট এলাকায় ঘোষণা করে চালানো হচ্ছে নানান প্রচারাভিযান। মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ ছাড়াও গঠন করা হয়েছে র‌্যাপিড রেসপন্স টিম।”