রাজধানীতে সঙ্গীর জননাঙ্গ কেটে ফেলার পর পুলিশ হেফাজতে থাকা নারীর মৃত্যু

রাজধানী ঢাকায় সঙ্গীর জননাঙ্গ কেটে ফেলার পর গ্রেপ্তার এক নারীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, ওই নারী ভাটারা থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় কীটনাশক পান করেন। ২৭ বছর বয়সী ওই নারী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ৪৮ বছর বয়সী ওই পুরুষ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ও ওই নারী একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ওই ব্যক্তি মিরপুর ১২ নম্বরে একটি বাসায় থাকেন। তার স্ত্রী জার্মানিতে থাকেন। তবে স্ত্রীর বাবা অসুস্থ ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি কিছুদিন আগে দেশে ফেরেন এবং হাসপাতালেই থাকেন। তাদের মধ্যে বনিবনাও হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার রাতে সঙ্গী ওই পুরুষ শিক্ষকের বাসায় যান ওই নারী। সেখানে তারা রাতে একত্রে থাকেন। ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সঙ্গীর জননাঙ্গ কেটে ফেলেন ওই নারী। পরদিন সকালে তিনি সঙ্গীকে রক্তাক্ত অবস্থায় বসুন্ধরা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

পুলিশ আরও জানায়, আহত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের স্বজনদের তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীকে আটক করে। এ সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ফোন নম্বরে কল করে তাকে রক্ষা করার দাবি জানান। ৯৯৯- নম্বর থেকে ফোন পেয়ে ভাটারা থানার আরেক দল পুলিশ সেখানে যায়। পরে পুলিশ ওই নারীকে আটক করে ভাটারা থানায় নিয়ে যায়।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাবি করেন, ‘‘ভাটারা থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় ওই নারী তার কোনো লোকদের দিয়ে ওষুধ আনার নাম করে কীটনাশক আনান এবং তা পান করে অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।”

এ ঘটনায় পল্লবী থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘‘আহত শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করানোর আগেই ওই নারীর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান তিনি। ওই নারী ও তার স্বজনেরা দাবি করেন, সহকর্মী ওই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক তার (ওই নারী) স্বামী। তিন-চার মাস আগে তাদের দুজনের মধ্যে বিয়ে হয়। কিন্তু ওই শিক্ষক আরেক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ নিয়ে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ওই নারী। তবে ওই নারী সত্যিই তার স্ত্রী ছিলেন কি না, তা কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”