জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, “ফেনীর বন্যার জন্য যে টাকা তোলা হয়েছিল, তা অডিট রিপোর্টসহ সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফান্ডে জমা দেওয়া হয়েছে। এই টাকা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তা ত্রাণ উপদেষ্টার কাছে জানতে চাইবেন, আমাদের কাছে নয়।”
সোমবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি থেকে পদযাত্রা শেষে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনীতে ঢাকায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের জন্য দোয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম এসব কথা বলেন। এ সময় এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি ২০২৪ এর বন্যায় ফেনীবাসীর জন্য টিএসসিতে তোলা ত্রাণের টাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
টিএসসির ত্রাণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি এক বছর আগের আলাপ। টিএসসিতে আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণের যত টাকা ওঠানো হয়েছিল তা আন্তর্জাতিক একটি ফার্মের মাধ্যমে অডিট করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পাই টু পাই টাকা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যে ফান্ড রয়েছে সেখানে জমা দিয়েছি। কারণ এখানে কাজ করার মতো আমাদের লজিস্টিক ও জনবল ছিল না। এগুলো গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরের কথা। এর আগে এমন কাজ করার অভিজ্ঞতাও আমাদের নেই। এতে টাকাগুলোর অপব্যবহার হতে পারতো। এ টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য সরকারের ফান্ডে দেওয়া হয়েছে। কারণ তাদের জনবল, দপ্তর ও নির্দেশনার ধারাবাহিকতা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “এটা আওয়ামী লীগের ত্রাণ মন্ত্রণালয় নয়, অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনস্থ ড. ইউনূসের ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আমরা যদি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের ওপর আস্থা না রাখি, তাহলে কার ওপর রাখব?”
ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করার কথা জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, “এই প্রশ্ন করবেন ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যে উপদেষ্টা রয়েছেন তাকে। জিজ্ঞেস করবেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী যে ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলন করেছে তারা ৯ কোটি টাকা দিয়েছে সেখান থেকে আপনি ফেনীর জন্য কত টাকা খরচ করেছেন, কত টাকা করেননি এটির হিসাব দেন।”
এনসিপির কেন্দ্রীয় এ নেতা আরও বলেন, “সামনে আরও বেশি পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। এটির জন্য লজিস্টিক সাপোর্টসহ যা যা করা প্রয়োজন সেটি আপনাদের জায়গা থেকে বুঝে নেবেন। আমরা ফেনীর সচেতন নাগরিক সমাজকে অনুরোধ করবো, আপনারা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে এটি জানতে চাইবেন। ইতোমধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে ফেনীর যারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছে তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যিনি উপদেষ্টা তার সঙ্গে কথা বলে ওই টাকা খরচ করা হয়েছে কি না খবর নেবেন। যদি না হয় কেন হয়নি বা যদি এর বেশি হয় তাহলে সেই খরচের বিস্তারিত বিবরণ যেন ফেনীর মানুষের কাছে উপস্থাপন করেন সেই বিষয়ে বলবেন।”