বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সামনে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর গেটে পূর্ব শত্রুতার জেরে ফজলে রাব্বী সুমন নামে (২৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সুমন ভোলার বড়নদী থানার পোখিয়া গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তিনি একটি হার্ডওয়ারের দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের বোন তানিয়া আক্তার বলেন, ‘‘সুমন পরিবার নিয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। আজ বেলা ১১টার দিকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের বিপরীত পাশে আমার বাসায় তার পরিবারসহ বেড়াতে এসেছিল। আমি রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকাই সুমন একটু ঘুরতে বের হয়েছিল। পরে খবর পাই, বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের বিপরীত পাশে ওই এলাকার মুন্না নামের এক যুবক সুমনকে দেখে প্রথমে তার কাছে টাকা চায়। পরে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে তাদের মাঝে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে মুন্না তার ডান পায়ের হাটুর ওপরে ছুরিকাঘাতে করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুমনের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে”

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ‘‘মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে।’’

মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল আলম বলেন, ‘‘রায়েরবাজার কবরস্থানের সামনে বসেছিলেন সুমন। হঠাৎ মুন্নাসহ কয়েকজন এসে সুমনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘সে আগে পাবনা গলিতে থাকত। এখন নারায়ণগঞ্জ এলাকায় থাকত। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি মুন্নার সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। নিহত সুমনের নামে আগের কোনো মামলা আছে কি না সেটার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’’