Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রায় হচ্ছে, যা বললো রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আগামী ৭ জুন (রবিবার) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক মাসরুর সালেকীন আগামী ৭ জুন (রবিবার) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ১ জুন এই মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ করে রায় ঘোষণার এই তারিখ নির্ধারণ করা হলো।

আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিচারক এজলাসে বসলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। সকাল ৯টার দিকে কারাগার থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয় এবং বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে, হাসপাতাল থেকে অসুস্থ অবস্থায় বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে আদালতে আনা হয় সোহেলের স্ত্রী তথা অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তুলে ধরে প্রধান আসামি সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) দাবি করেন। একই সঙ্গে স্বামীর অপরাধে সহযোগিতা করা ও বাইরে থেকে দরজা ধাক্কালেও না খোলার অপরাধে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারেরও আইনানুগ শাস্তির দাবি জানান।

রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেখায়, ঘটনার দিন ভবনের ওই ফ্লোরে আর কোনো পরিবার ছিল না। হত্যাকাণ্ডের পুরো সময় স্বপ্না আক্তার বাসার ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন এবং বাইরে থেকে কেউ রামিসার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি ভেতরে ‘শিশু নেই’ বলে মিথ্যা তথ্য দেন। এছাড়া ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শী আবু শামা আসামি সোহেলকে ভবনের তিনতলার জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে দেখেছেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সোহেল রানার পূর্বে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পড়ে শোনান এবং উল্লেখ করেন যে, জবানবন্দির কোথাও ‘ডলার’ নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব ছিল না।

বেলা ১টা ৩১ মিনিটে আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক শুরু করে দাবি করেন, আসামি তার জবানবন্দিতে নিজেই বলেছেন তিনি নেশা করেন। একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি কখনো সঠিক কথা বলতে পারেন না, তাই জবানবন্দির ভিত্তিতে তাকে শাস্তি দেওয়া ঠিক হবে না। এর জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলে, অপরাধ সংঘটনের সময় এবং আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় আসামি মোটেও নেশাগ্রস্ত ছিলেন না। বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে প্রধান আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পুলিশ তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফ্ল্যাট থেকে আটক করে। ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেলকে। পরদিন ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সোহেল।

তবে গত ১ জুন বিচার শুরুর দিন এবং পরদিন ২ জুন প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় সোহেল রানা আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে চিৎকার করে দাবি করেন, 'ডলার' নামের এক ধনী ব্যক্তি রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছেন এবং তিনি নিজে শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছেন।

যদিও আসামিপক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ জানান, আসামিরা তার কাছে ‘ডলার’ সম্পর্কে কিছুই বলেনি এবং পুলিশি তদন্তেও এই নামের কারও কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রপক্ষ এটিকে পেশাদার অপরাধীর চাতুর্য এবং গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার একটি অপচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে।

   

About

Popular Links

x