অব্যবহৃত ডাটা-মিনিট পরবর্তী প্যাকেজে যুক্ত হবে কি না, ভোক্তাকে জানাতে হবে

অব্যবহৃত ডাটা ও মিনিট পরবর্তী প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রযোজ্য শর্তাবলি স্পষ্ট করে ব্যবহারকারীকে জানাতে হবে। অর্থাৎ অব্যবহৃত ডাটা ও মিনিট পরবর্তী প্যাকেজ চালু করার পর সেটির সঙ্গে যোগ হবে কি না, তা পরিষ্কার করে গ্রাহককে নিশ্চিত করবে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো। গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি)।

সোমবার (২৮ জুলাই) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় ডিএনসিআরপি। সভায় গ্রামীনফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক প্রতিনিধি, বিটিআরসি প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ মোবাইল টেলিকম অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অধিদপ্তরের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘‘গ্রাহকরা বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন। কিন্তু অপারেটররা নিয়মিত অভিযোগের শুনানিতে উপস্থিত থাকছেন না, কোন কোন অপারেটরের পক্ষে ক্রমাগত সময় চাওয়ায় অভিযোগগুলো নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে।’’

এরপর সভায় মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিরুদ্ধে ভোক্তাদের প্রাপ্ত অভিযোগগুলো উপস্থাপন করা হয়। এরপর অভিযোগ কমাতে এবং যেসব অভিযোগ আছে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি ও ভোক্তাদের স্বার্থে ৫টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১. মোবাইল ফোন অপারেটররা অধিদপ্তরে দাখিল করা অভিযোগগুলো আগামী সাত দিনের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তিযোগ্য অভিযোগগুলো নিজ উদ্যোগে নিষ্পত্তি করে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিল করবেন। যেসব অভিযোগের বিষয়ে অপারেটররা দ্বিমত করবেন, সেসব অভিযোগ যথারীতি শুনানির মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিষ্পত্তি করবে। শুনানিতে নিয়মিত উপস্থিত থাকার জন্য অপারেটররা নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবেন।

২. অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা/আমলযোগ্যতা যাচাইয়ে যেসব টেকনিক্যাল বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে, অপারেটররা সেসব বিষয়ের একটা চেকলিস্ট তৈরি করে আগামী সাত দিনের মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠাবেন।

৩. অব্যবহৃত ডাটা-মিনিট পরবর্তী প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রযোজ্য শর্তাবলি স্পষ্ট করে ব্যবহারকারীকে জানাতে হবে।

৪. কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির সঙ্গে কোনো অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার সময়ে অভিযোগকারীর সিম থেকে কলচার্জ বাতিল/গ্রহণযোগ্য করার সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করে মোবাইল ফোন অপারেটররা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

৫. পুরোনো সিম নতুন করে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সিমের প্যাকেটে পরিষ্কার ভাষায় ইংরেজিতে ‘‘রি-ইউজড’’ এবং বাংলায় ‘‘পূর্বে-ব্যবহৃত’’ লিখতে হবে যাতে সিম ক্রয়ের আগেই ভোক্তা জানতে পারেন।