মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে তাকে খালাস দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
বুধবার (৩০ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ মোবারক হোসেনের আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে সরকার বদলের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাসের রায় এল আপিল বিভাগ থেকে। এর আগে গত ২৭ মে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে বেকসুর খালাস দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর চতুর্দশ রায়ে মো. মোবারক হোসেনের মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে।
২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই রায়ে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোবারককে হত্যা, নির্যাতনের মতো যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে তার সর্বোচ্চ সাজা কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয় সেই রায়ে।
এ মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দিনগুলোতে মোবারক জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। তার নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হিন্দু মন্দির “আনন্দময়ী কালীবাড়ী” দখল করে “রাজাকার মঞ্জিল” নামকরণ করেন এবং সেখানে বহু মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন চালায়।
তার নেতৃত্বেই রাজাকার বাহিনী সে সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অপহরণ, লুটপাট, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বেশ কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়ান মোবারক। ২০১২ সাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। সে বছর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।--
একাত্তরে ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় নিহত আব্দুল খালেকের মেয়ে খোদেজা বেগম ২০০৯ সালের ৩ মে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিচারিক হাকিম আদালতে একটি মামলা করেন। সেখানে মোবারককে আসামি করা হয়।
ওই বছরের ১৩ মে মোবারক হাই কোর্ট থেকে ৬ মাসের আগাম জামিন নেন। এরপর কয়েক দফা জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০১২ সালের ৬ জুন মোবারকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলাটি ট্রাইব্যুনালে আসে।
ওই বছরের ১৬ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ২৫ ফেব্রুয়ারি মোবারকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ১২ মার্চ অভিযোগ আমলে নিয়ে জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল যুদ্ধাপরাধের পাঁচ ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মোবারকের বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি “প্রমাণিত” হওয়ার কথা জানিয়ে মোবারককে একটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং অপরটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।
পরে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে মোবারক হোসেন আপিল করেন। এ বছরে ৮ জুলাই সেই আপিলের শুনানি শুরু হয়।
আপিল বিভাগে মোবারকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামিম।