ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন এটিএম সেবা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যাংকের বুথে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে টাকা উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকেরা।
রবিবার (২৪ মে) ও সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং গ্রাহকদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক গ্রাহক এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে না পেরে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাজধানীর মৌচাক, গোলাপবাগ, মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, মগবাজার ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর অনেক এটিএম বুথে টাকা না থাকায় সেবা অচল হয়ে রয়েছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, ভালো অবস্থানে থাকা কিছু ব্যাংকও নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর অঘোষিত সীমা আরোপ করা হয়েছে।
আবার যেসব ব্যাংকের বুথ চালু রয়েছে, সেগুলোতে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ছুটির এই সময়ে বুথ থেকে বুথে ঘুরেও প্রয়োজনীয় অর্থ না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
তাজওয়ার ইসলাম নামের একজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “মানুষ নিজের কষ্টের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার বুথে ঘুরছে, লাইনে দাঁড়িয়ে অপমানিত হচ্ছে, আর ব্যাংকগুলো চুপ করে আছে। কোরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও যদি মানুষ নিজের টাকা তুলতে না পারে, তাহলে এসব ব্যাংক সাধারণ মানুষকে আর কীভাবে সেবা দেবে?”
মিরপুরের বাসিন্দা সায়েফ খান লিখেন, “ডাচ-বাংলা ব্যাংকের তিনটি বুথ ঘুরেও টাকা তুলতে পারলাম না। এটিএম বুথে টাকা নেই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। কোনো ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা না পেয়ে ফিরে যায়নি। এখন কোনো ব্যাংক যদি নিজস্ব গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহে ব্যর্থ হয়, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক যদি এ বিষয়ে অবহেলা করে বা গ্রাহকসেবায় ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদের ছুটির সময় এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং বুথগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখতে হবে। এছাড়া পিওএস, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ও এমএফএস সেবা সচল রাখা এবং গ্রাহকদের জন্য হেল্পলাইন ও এসএমএস সতর্কবার্তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।