বিশ্বের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া “ডোনাল্ড ট্রাম্প” নামের মহিষটির নামে চালু হয়েছে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি মিমকয়েন ও টোকেন।
রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এর আগের ২৪ ঘণ্টায় টোকেনটির দাম বেড়েছিল ১০.৭%।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামানুসারে মহিষটির নামকরণের পরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় “ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষ” বা “বাফেলো ডোনাল্ড ট্রাম্প”। এর সূত্র ধরেই “বাফডন” বা বাফেলো ডোনাল্ড নামে মিমকয়েন ও টোকেন চালু হয় ক্রিপ্টোকারেন্সির সোলানা ব্লকচেইনে।
ক্রিপ্টোকারেন্সির ডেটা বিশ্লেষণ করা প্ল্যাটফর্ম কয়েনগেকো জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় বাফডন-এর বাজার মূলধন ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭২৫ ডলার। বাজারে এই কয়েনের র্যাংকিং ৫,১৬০ নম্বরে। লেনদেনযোগ্য বাফডন টোকেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৩ কোটি।
জানা গেছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে সাধারণত হাইপ তৈরির জন্য এ ধরনের মিমকয়েন বা টোকেন চালু করা হয়। এই টোকেনের কোনো আর্থিক মূল্য নেই। তবে এটিকে কেন্দ্র করে যে কমিউনিটি গড়ে ওঠে, সেটি এক সময় বাজারে আর্থিক মূল্য থাকা কারেন্সির (যেমন বিটকয়েন) লেনদেনের ওপর প্রভাব ফেলে।
সম্প্রতি বাফডন মিমকয়েনটির একটি ওয়েবসাইটও চালু হয়েছে। যেটির স্লোগান “মেক বাফেলোস গ্রেট অ্যাগেইন”। সাইটে বলা হয়েছে, এটি ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন পরিচালনার ব্লকচেইন সোলানার ব্যবহারকারীদের পরিচালিত একটি মিমকয়েন। বাস্তব জীবনে এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উপযোগিতা বা কার্যকারিতা নেই। এটি মূলত একটি মিম, ট্রেন্ড ও কেবলই বিনোদনের অংশ।
কয়েনগেকোর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার মার্কিন ডলারে একটি বাফডন টোকেনের বাজারমূল্য ছিল ০.০০০১৭৩৫ ডলার। ক্রিপ্টোকারেন্সির সবচেয়ে জনপ্রিয় মুদ্রা বিটকয়েনের বিপরীতে বাফডনের দাম ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছিল ১০.৫%। তবে রাত ৯টার পর থেকেই এই দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির রুটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের এক নিবন্ধ থেকে জানা যায়, বিটকয়েন বা অন্যান্য মূলধারার ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোকে উপহাস করার জন্য সাধারণত মিমকয়েন তৈরি করা হয়। এর একটি কাল্পনিক মূল্য ধরা হয়। অর্থনৈতিক বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অধিকাংশ মিমকয়েনের নির্দিষ্ট উপযোগিতা থাকে না। এগুলো শুধু লেনদেনের জন্য টিকে থাকে।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার রাবেয়া এগ্রো ফার্মে পালন করা ৭০০ কেজি ওজনের অ্যালবিনো মহিষটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। সাদা লোম ও চুলের বিশেষ গঠনের কারণে অনেকের কাছে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মনে হওয়ায় মহিষটির নাম রাখা হয় “ডোনাল্ড ট্রাম্প”।
গত বুধবার (২৭ মে) রাতে মহিষটিকে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়। বর্তমানে এটি “এল ০৭” নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে খাঁচার সামনে বাংলায় “সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)” এবং ইংরেজিতে “Albino Buffalo” লেখা পরিচিতি স্থাপন করা হয়েছে।