বাংলাদেশসহ আরও ৫৯টি দেশের ওপর জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) ঠেকাতে নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) ৬০টি দেশ থেকে পণ্য আমদানির ওপর ১০ বা ১২.৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
প্রস্তাব কার্যকর হলে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কার্যালয় এই প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত শুল্কব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি শুল্ক আদেশ বাতিল করে দেওয়ার পর প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্তের ভিত্তিতে কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, তদন্তের আওতায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের ওপর ১২.৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে, তারা একটি নতুন টেক্সটাইল মেকানিজম প্রস্তাব করেছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক কম শুল্কহারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে শুল্কহার কত হবে এবং আমদানির পরিমাণ কত হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন আগামী ২৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সকলের জন্য আরোপিত অস্থায়ী ১০% শুল্কের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি এই অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিল। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়।
ইউএসটিআর আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কয়েকটি পণ্যকে নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, বিরল মৃত্তিকা খনিজ (রেয়ার আর্থস) ও কিছু অন্যান্য ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট কিছু ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক পদার্থ (অর্গানিক কেমিকেলস) এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ।



