Saturday, June 27, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

খাদ্য নিরাপত্তা জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় মিলবে ৩০ কোটি ডলার

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

বিশ্ব বাজারে সার ও জ্বালানির দামের অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। দুইটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ অনুমোদন দেওয়া হবে।  

শনিবার (২৭ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব আয় সংকুচিত হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপে পড়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর।”

তিনি আরও বলেন, “এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক তাৎক্ষণিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো ধান উৎপাদনের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা করতে এবং জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে ভূমিকা রাখবে।”

অনুমোদিত তহবিলের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’ বা খাদ্য নিরাপত্তা জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় মিলবে ৩০ কোটি ডলার। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে।

চাহিদার প্রায় ৮৫% এর বেশি সার আমদানি করে বাংলাদেশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ লাখ মেট্রিক টন জরুরি সার আমদানি করা সম্ভব হবে, যার অর্ধেকই হবে ইউরিয়া সার। ফলে ক্ষুদ্র কৃষকদের অধীনে থাকা প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমির ধান চাষ নিশ্চিত হবে।

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার এবং বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট সুলেইমান কুলিবালি বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা মূলত আমন ও বোরো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০%। এছাড়া, দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষি খাতের সঙ্গে জড়িত। ফলে সারের সরবরাহে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন শুধু খাদ্য নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং দারিদ্র্য বাড়াবে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত করবে।”  

‘কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’ বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রকল্পের আওতায় ৭১৩ মিলিয়ন ডলার দ্রুত বিতরণ করা হবে। এ অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোকে নগদ অর্থ সহায়তা ও জীবিকা নির্বাহের অনুদান দেওয়া হবে, যা সংকটের সময়ে তাদের আয় স্থিতিশীল রাখতে এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

এছাড়া খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি ও পানির মতো জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে এটি অর্থায়ন করবে। এই প্রকল্পের অর্থ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার এবং বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট লেসলি জিন ইউ কর্ডেরো বলেন, “বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ফলে বড় ধরনের সংকট থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের প্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হবে।”

   

About

Popular Links

x