ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের ৩,৫০০ কোটি টাকা উত্তোলন

ইসলামী ব্যাংক থেকে পাঁচ কার্যদিবসে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা।

ব্যাংকটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমের নিয়োগের পর থেকেই গ্রাহকদের মধ্যে অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা দ্রুত বাড়তে থাকে।

একজন কর্মকর্তা জানান, তার নিয়োগের পর প্রথম চার কার্যদিবসে (১–৪ জুন) গ্রাহকরা প্রায় ২ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা তুলে নেন। দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুধু রবিবার এক দিনেই প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন হতে পারে বলেও তিনি ধারণা দেন।

ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন জানান, কিছু গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, “আমি গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানাই। এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে টাকা তোলার কোনো কারণ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে যেকোনো ঋণ অনুমোদন কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমি আশা করি, বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানে এগিয়ে আসবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “আমরা ইসলামী ব্যাংককে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। গ্রাহকরা নগদ টাকা তুলে নিচ্ছেন নাকি অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করছেন, সেটিও আমরা নজরদারি করছি।”

তিনি জানান, ব্যাংকটি এমন অবস্থায় নেই যে তারা উত্তোলনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। যদি ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা দেবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও ব্যাংক সংকটে পড়েছিল এবং তখন বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সহায়তা দিয়েছিল। আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।”

প্রসঙ্গত, ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদ হারান। চলতি মাসের ১ তারিখ দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল তার।

তবে তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে ওই দিনের নির্ধারিত বোর্ড সভা বাধাগ্রস্ত হয়। বিক্ষোভের কারণে খুরশিদ আলম তার প্রথম কর্মদিবসে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সভাটি অনলাইনে আয়োজনের নির্দেশ দেয়।

একই দিনে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিক্ষোভের মধ্যেই তৎকালীন চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগ করেন।