ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বাজেট ২৭ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১,১০০ কোটি

দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবায়েতদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন বাজেটে বিশাল বরাদ্দের ঐতিহাসিক প্রস্তাব করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতের জন্য প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম বাজেট পেশ করার সময় এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী বাজেটে ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবায়েতদের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ২৭.৫৩ কোটি টাকা। সেই তুলনায় বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্প্রীতি এবং সব ধর্মের ধর্মীয় প্রধানদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১,০৮১ কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমরা ধর্মীয় বিভাজনের বিপরীতে সংহতি ও সাম্যে বিশ্বাস করি।” সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই বিশাল সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

নতুন নীতিমালার আলোকে সরকার দেশের সব উপাসনালয়ের প্রধানদের রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় আনছে। এর মধ্যে—

মসজিদের ক্ষেত্রে: প্রতিজন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে মোট ১০,০০০ টাকা করে মাসিক ভিত্তিতে সম্মানি প্রদান করা হচ্ছে।
অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে: সনাতনসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাসিক ভিত্তিতে মোট ৮,০০০ টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে দেশের মোট ৬,৪৩৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯,৫২০ জনকে এই মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতা প্রদান করা শুরু হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই রাষ্ট্রীয় সুবিধা সম্প্রসারণ করা। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই প্রাথমিকভাবে আগামী বাজেটে ১,০৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।