“জাতীয় শিল্প নীতি ২০২২”-এ সেবা খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট শিল্পকে। ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় চার লাখ ৩০ হাজার রেস্টুরেন্ট মালিক তাদের ব্যবসা দ্বিগুণ করার আশা করছেন।
২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ শিল্প নীতি-২০২২-এর গ্যাজেটে সেবা খাতের পঞ্চম অবস্থানে রাখা হয়েছে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট শিল্পকে। ১১ আগস্ট মন্ত্রিসভা এই নীতির অনুমোদন দেয়।
জানা গেছে, দেশের রেস্টুরেন্টগুলো বর্তমানের ৮৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা থেকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা মূল্য সংযোজন বৃদ্ধির আশা করছে। এজন্য শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রেস্টুরেন্ট বিক্রি বাড়ানোর জন্য এবং মানসম্পন্ন সেবা দেওয়ার জন্য সময়ের নীতি এবং নিয়ম প্রত্যাশা করছেন।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, “বৈশ্বিক মান বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের ব্যবসা দ্বিগুণ হবে এবং এক দশকের মধ্যে তিনগুণ হবে বলে আমরা আশা করছি। আমাদের পরিষেবার মান বাড়ানোর জন্য সরকারের ঘোষণার উপর ভিত্তি করে নতুন নীতি ও নিয়ম দরকার।”
রেস্টুরেন্ট খাতকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়ায় খুশি মালিকরা। কারণ এখন থেকে তারা অন্যান্য শিল্পের মতো গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ পাবেন।
ইমরান হাসান আরও বলেন, “এটির আরেকটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে, আমরা যুক্তিসঙ্গত সুদে ব্যাংক থেকে লোন পাবো, যা পণ্যের দাম কমাতে এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করতে আরও সাহায্য করবে।”
তিনি বলেন, “ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরগুলো ছাড়াও অনেক শহরতলী ও পর্যটন স্পটে উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও অনেক চেইন রেস্টুরেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।”
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সমীক্ষা-২০২১ থেকে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে হোটেল ও রেস্টুরেন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৩০ হাজারে। যা ২০১০ অর্থবছরে ছিল দুই লাখ ৭০ হাজার। এছাড়াও বর্তমানে এই খাতে সরাসরি জড়িত আছেন ২২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, যা এক দশক আগে ছিল মাত্র ৯৪ হাজার। ২০১০ সালে এই খাত থেকে কর আদায় হয়েছিল ১১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।