প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি মানুষের আকর্ষণটা বরাবরই একটু বেশি। সেখানে আলুর চিপসের ব্যাপারে অনেকেরই দুর্বলতা আছে। কালেভদ্রে মচমচে চিপস উপভোগ করাটা খারাপ নয়; বরং তা স্বাদে ভিন্নতা আনার জন্য বেশ ভালো কাজে দেয়।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও চিপসপ্রেমীদের কাছে পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে লেইস ব্র্যান্ডের পটেটো চিপস। ব্যাপক চাহিদার কারণে বিখ্যাত এ ব্র্যান্ডের চিপস এখন থেকে বাংলাদেশেই উৎপাদন হবে।
লেইস মূলত পানীয় ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান পেপসিকোর অন্যতম একটি ব্র্যান্ড। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাংলাদেশে পেপসিকোর অংশীদার ট্রান্সকম গ্রুপ। সেই ট্রান্সকম কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের সহযোগিতায় স্থানীয়ভাবে পটেটো চিপসের উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে “লেইস মেক ইন বাংলাদেশ” উদ্যোগের অংশ হিসেবে বগুড়ার প্ল্যান্টে কারখানা স্থাপন করা হয়েছে।
পেপসিকো জানায়, বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত বগুড়া প্ল্যান্টের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো কৃষির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, যেখানে প্রচুর পরিমাণে আলু উৎপাদিত হয়।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লেইস উৎপাদনের কারখানা করায় বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, কৃষকেরা উপকৃত হবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এটি ভূমিকা রাখবে। লেইস উৎপাদনের জন্য চিপস তৈরির উপযোগী উন্নত মানের আলু কেনা হবে বগুড়ার কৃষকদের কাছ থেকে।
এতে আরও বলা হয়, প্রথম বছর দশ হাজার মেট্রিক টন আলু কেনার লক্ষ্য রয়েছে। সে জন্য ১,২০০ জন কৃষকের সঙ্গে চুক্তি করা হবে। কৃষকরা এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও আলুর স্থিতিশীল দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন। পাশাপাশি লেইস উৎপাদনের জন্য একটি মানসম্মত, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশে লেইস উৎপাদনকারী প্রতিটি প্ল্যান্টের লক্ষ্য এবং প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে পেপসিকোর খাদ্য বিভাগের কান্ট্রি ম্যানেজার প্রণব মেহতা বলেন, “লেইস বিশ্বজুড়ে একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। বাংলাদেশেও লেইসের প্রতি মানুষের আগ্রহ একই রকম। এটিই পেপসিকোকে তার বিশ্বস্ত অংশীদার ট্রান্সকমের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশে চিপস উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রান্সকমের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ লেইস মেক ইন বাংলাদেশ গ্রহণ করে বাংলাদেশে লেইস চালু করা ছিল এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা, যা ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিতে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এ উদ্যোগটি কেবল কয়েক লাখ গ্রাহকদের জন্যই শুধু আনন্দই আনবে না, সঙ্গে তারা এখন দেশেই তৈরি লেইসের পণ্যগুলো উপভোগ করতে পারবেন খুবই সাশ্রয়ী মূল্যে।”
প্রণব মেহতা বলেন, “কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সুস্বাদু এই স্ন্যাক্স সকলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্ল্যানটি একটি টেকসই কৃষি ব্যবসা মডেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারে বলে আমি আশাবাদী।”
বাংলাদেশে তৈরি লেইস চিপস পাওয়া যাবে আমেরিকান স্টাইল ক্রিম ও অনিয়ন, স্প্যানিশ টমেটো ট্যাঙ্গো, ক্ল্যাসিক সল্টেড এবং থাই স্টাইলের স্পাইসি চিকেনের মতো স্বাদে। ভিন্ন চারটি স্বাদের চিপস ১০ টাকা, ১৫ টাকা, ২৫ টাকা, ৫০ টাকা এবং ৭৫ টাকা দামের প্যাকেটে পাওয়া যাবে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোমল পানীয় ও খাদ্যপণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান পেপসিকোর পণ্য বিশ্বের ২০০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে বিক্রি হয়। দিনে ১০০ কোটির বেশিবার গ্রাহকেরা পেপসিকোর পণ্য গ্রহণ করেন। পেপসিকোর তৈরি পেপসি কোলা, মাউন্টেন ডিউ, ডরিটোস, চিটোস, কোয়াকারসহ কোমল পানীয় ও হালকা খাবারের ব্র্যান্ডগুলো জনপ্রিয়। লেইস ব্র্যান্ডটি পেপসিকোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রিটো-লের অধীনে পরিচালিত হয়। ফ্রিটো–লের ব্যবসার আকার ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার (প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা)।
পেপসিকো ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ এলশেখ বলেন, “সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষমতায়ন, সমাজের উন্নয়ন ও দীর্ঘ মেয়াদে অংশীদারত্বের প্রতি লেইসের অঙ্গীকার রয়েছে। বগুড়ার কারখানাটি সেটির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ট্রান্সকমের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বের এই নতুন অধ্যায়য়ের যাত্রা এই অঞ্চলের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।”
পেপসিকো বাংলাদেশের কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্বিত উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “পেপসিকো একটি বৃহৎ কৃষক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে পারবে। আমরা আশাবাদী, আমাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং জ্ঞান কৃষক ও স্থানীয় জনগণের মাঝে হাতে কলমে আলু চাষের উন্নতি সাধনে সাহায্য করবে।”
ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, “আমরা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলে পেপসিকোর বিশ্বস্ত অংশীদার এবং বাংলাদেশে তাদের যাত্রায় আরেকটি মাইলফলকে পাশে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত। আজ বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন, কারণ বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ব্র্যান্ড লেইস এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হবে।”
সিমিন রহমান আরও বলেন, “এ উদ্যোগ কৃষক, কৃষি সংস্থা, পরিবহনকারী, কোল্ড স্টোরেজ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীসহ সমগ্র ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আমরা নিশ্চিত যে বাজারের প্রতি পেপসিকোর প্রতিশ্রুতি, কোম্পানি এবং ব্র্যান্ড লেইস-এর বিকাশ ত্বরান্বিত করেবে।”