দেশের প্রথম তৈরি পোশাক জাদুঘর খুলবে ১৪ আগস্ট

ঢাকায় বিজিএমইএ সদর দপ্তরে দেশের প্রথম তৈরি পোশাক (আরএমজি) জাদুঘর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ আগস্ট।

রবিবার (৩০ জুলাই) একটি চিঠি পাঠিয়ে বিজিএমইএর সদস্যদের তৈরি পোশাক ব্যবসা সম্পর্কিত আর্কাইভাল উপাদান ও বস্তু দান করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।

তিনি বলেন, “১৯৮০ সালের দিকে তৈরি পোশাক, আনুষাঙ্গিক, খুচরা জিনিসপত্র আমরা সংগ্রহ করছি। প্রাথমিকভাবে, আমরা ইতিহাস, সংরক্ষণাগার, বাণিজ্যিক নথি, পুরানো এল/সি বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক নথির কপি, ছবি, অডিও-ভিজ্যুয়াল, সেলাই মেশিন বা অন্যান্য মেশিনের নমুনা কপির মতো জিনিসপত্র সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রদর্শন করার পরিকল্পনা করছি।”

তিনি সদস্যদের চিঠি, ফ্যাক্স, টেলেক্স, ডায়েরি, উপস্থাপনা, বা ঐতিহাসিক মূল্য আছে এমন অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক নথি দান করার অনুরোধ করেন।

এছাড়া অফিস মেশিন বা সরঞ্জাম যেমন টাইপরাইটার, কম্পিউটার, ফ্যাক্স মেশিন, শিল্পের পুরোধাদের জীবনী ও শিল্পের ইতিহাসের সাথে প্রাসঙ্গিক অন্যান্য সংগ্রহযোগ্য জিনিস এবং তথ্য, গল্প ইত্যাদি সংরক্ষণে সহযোগিতা চেয়ে আহ্বান জানান।

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, “উল্লিখিত জিনিসপত্র পাঠানো ব্যক্তির নাম ও বিবরণ জাদুঘরে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হবে।”

সদস্যদের প্রতি তিনি বলেন, “জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য যারা অবদান রাখবেন, গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করতে সাহায্য করবেন ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, “৪০ বছর ধরে দেশের বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি প্রধান চালিকাশক্তি। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এটি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এখন এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক ও লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করছে।”

চিঠিতে ফারুক হাসান বলেন, “আরএমজি শিল্পের ইতিহাস সুপরিচিত নয়, অনেক গল্প এবং স্মৃতি হারিয়ে গেছে। এই ইতিহাস সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম শিল্পের চ্যালেঞ্জ এবং বিজয় সম্পর্কে জানতে পারে।”

“এটি এমন একটি জায়গাও হবে যেখানে আরএমজি শিল্পের অগ্রগামীদের অবদান ও এই শিল্পটিকে আজকের মতো করে তোলার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করা হয়েছে সে সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবে। আমি বিশ্বাস করি একটি আরএমজি জাদুঘর শিল্পের ইতিহাসের জন্য একটি উপযুক্ত শ্রদ্ধার মাধ্যম হবে। এটি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এর উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করবে। আমি সবাইকে বিজিএমইএ-তে এর প্রতিষ্ঠার কাজকে সমর্থন করার অনুরোধ করছি।”

জাদুঘর প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “নির্ধারিত তারিখে এটি চালু করার জন্য আমরা কাজ করছি।”

তিনি বলেন, “জাদুঘরটিতে দেশের বৃহত্তম রপ্তানি আয়কারী আরএমজি খাতের যাত্রা, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও বর্তমান পরিস্থিতির গল্প বলবে। আরএমজি শিল্পের যাত্রা আজ যেখানে রয়েছে তা সহজ ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর জন্য এটি বহু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে, একটি বহু বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হয়েছে। মূলত, এই জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য হবে সেই যাত্রার ইতিহাস তুলে ধরা।”