আয়কর রিটার্ন জমা বেড়েছে ১৭%

দেশে আয়কর রিটার্ন দাখিলের হার আগের কর বছরের (২০২২-২৩) তুলনায় এ বছর ১৭% বেড়েছে। আর ফাইল জমার সংখ্যা ১৪.৪৭% বেড়েছে।

এ বছর রিটার্ন হিসাবে ৫,৭৯৯ কোটি টাকার কর পাওয়া গেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭% বেশি।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৯.৯৭ মিলিয়ন ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) ধারী রয়েছে। এরমধ্যে এ বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩.৫৪ মিলিয়ন রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে।

তার মানে মাত্র ৩৫.৫১% টিআইএনধারী তাদের ট্যাক্স রিটার্ন পূরণ করেছেন।

ফলে দেশের প্রায় ৬৫% টিআইএন ধারক গত কর বছরে তাদের রিটার্ন জমা দেননি।

যারা নির্ধারিত তারিখের পরে রিটার্ন দাখিল করার পরিকল্পনা করছেন তাদের জরিমানা দিতে হবে ও কোনো ট্যাক্স রেয়াত পাবেন না।

যদিও ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা দুবার বাড়ানো হয়েছিল। সবশেষ মেয়াদ ৩১ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। তবে এখনও রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্র আরও বলেছে, সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও, জুনের মধ্যে আয়কর (আইটি) রিটার্নের সংখ্যা ৪ মিলিয়নে পৌঁছে যাবে, যা এখনও টিআইএনধারীর ৫০% এর নিচে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনীম বলেন, “বড় হারে করের হার বাড়াতে হলে প্রত্যক্ষ কর বা আয়করের ক্ষেত্র বাড়াতে হবে।”

তিনি বলেন, এনবিআর সারাদেশে করযোগ্য আয় ও টিআইএন আছে এমন করদাতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে।

এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি আয়কর রিটার্ন প্রিপারার্স (টিআরপি) নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।

টিআরপি নিয়ম ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে।

তবে আয়কর আইনজীবীরা এই নিয়মকে “কালো আইন” আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের জন্য আন্দোলন করছেন।

সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৩০,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যার মধ্যে আয়কর শাখার জন্য ১৫৪,০০০ কোটি টাকা রাজস্বের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন নিয়মে রিটার্ন ফাইল করবেন যেভাবে

আগের আইনে, কোনো করদাতার বৈধ কারণ থাকলে, তারা সংশ্লিষ্ট কর অফিস থেকে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারতেন।

কিন্তু নতুন আইনে সময় চাওয়ার সুযোগ রহিত করা হয়েছে। সারা বছরের যেকোনো সময় রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

কিন্তু সময়সীমার পরে রিটার্ন দাখিল করা হলে, করের উপর ৪% সুদ প্রদেয় হবে। এছাড়াও, করদাতারা যে বিনিয়োগ রেয়াত পাওয়ার কথা ছিল তার কোনোটিই পাবেন না, তাই তাদের আরও বেশি কর দিতে হবে।

আয়কর আইন ২০২৩ অনুসারে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

২০২৩ সালের ২২ জুন আয়কর আইন রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেয়েছে। এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ বাতিল করা হয় ও নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়।

নতুন আয়কর আইন অনুসারে, প্রায় ৪৩ ধরণের পরিষেবা পাওয়ার জন্য আয়কর রিটার্নের স্বীকৃতি স্লিপ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।