রমজান শুরু হয়েছে। মুসলমানদের সিয়াম সাধনার এই মাসে ইফতারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গই বলা চলে খেজুর। মূলত, মুসলিম বিশ্বে ইফতারে যেই খেজুর খাওয়া হয়, তা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসে। ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। এখন এই কথাও শোনা যাচ্ছে, ইসরায়েল থেকেই নাকি সবচেয়ে বেশি খেজুর বিশ্বে আমদানি হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে ইসরায়েল কি সত্যিই বিশ্বের শীর্ষ খেজুর রপ্তানিকারক?
বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ইন্টিগ্রেটেড ট্রেড সলিউশন (ডব্লিউআইটিএস) তথ্যভাণ্ডার থেকে পাওয়া উপাত্তে দেখা যায়, ২০২১ সালেও ইসরায়েল ছিল বিশ্বের শীর্ষ খেজুর রপ্তানিকারক দেশ। এরপরেই ছিল সৌদি আরব, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তিউনিশিয়ার অবস্থান।
ওই বছরে ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার মার্কিন ডলারের খেজুর রপ্তানি করে ইসরায়েল। আর দ্বিতীয় শীর্ষ খেজুর রপ্তানিকারক হিসেবে সে বছর সৌদি আরব ৩২ কোটি ৪৫ লাখ ৬২ হাজার মার্কিন ডলারের খেজুর রপ্তানি করে।
এছাড়া ইরান ৩০ কোটি ৫২ লাখ ২৯ হাজার মার্কিন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ২৭ কোটি ২০ লাখ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার এবং তিউনিসিয়া ২৫ কোটি ৬৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের খেজুর রপ্তানি করে।
ইসরায়েল মূলত রপ্তানি আয়ের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ খেজুর রপ্তানিকারক। অর্থাৎ, তাদের খেজুরের মান উৎকৃষ্ট। ইসরায়েল ২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার কেজি খেজুর। পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি খেজুর সে বছর রপ্তানি করে ইরান। ২০২১ সালে দেশটি ৩৪ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার কেজি খেজুর রপ্তানি করে।
এরপর সৌদি আরব ৩১ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার কেজি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ২৬ কোটি ১৪ লাখ ২১ হাজার কেজি, পাকিস্তান ১২ কোটি ১২ লাখ ৪৪ হাজার কেজি, তিউনিসিয়া ১১ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার কেজি খেজুর রপ্তানি করে।
২০২৩ সালে রমজান মাসে ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক দিয়েছিল ইউরোপীয় মুসলিমদের সংগঠন ফ্রেন্ডস অব আল-আকসা (এফএও)। ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বর নির্যাতন, বর্ণবাদী ও ধর্মবিদ্বেষী আচরণের প্রতিবাদে এ ডাক দেওয়া হয়।