জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির অধ্যাদেশ জারির প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেছেন শুল্ক-কর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে কাল ও পরশু সারাদিন কর্মবিরতি পালন করবেন শুল্ক-কর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শনিবার (২৪ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের কক্ষ ছেড়ে এনবিআরের নিচতলায় অবস্থান নেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে।
আজ কাস্টম হাউস, শুল্ক স্টেশন ছাড়া কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি চলে। ঢাকার বাইরের দপ্তরগুলোয় কর্মবিরতি চলেছে বলে জানা গেছে।
শনিবার বিকেলে আগামী দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লাহ, উপকর কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার ইশতিয়াক হোসেন।
ঘোষিত কর্মসূচি হলো রবিবার রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কাস্টম হাউস এবং শুল্ক স্টেশন ছাড়া আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সব দপ্তরে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি চলবে। আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ছাড়া আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি চলবে।
চার দফা দাবি
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি মূলত চারটি। প্রথমত, জারিকৃত অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করা; দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা; তিন, রাজস্ব সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা; চার, এনবিআরে প্রস্তাবিত খসড়া ও পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অর্থবছরের শেষ প্রান্তে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে চারটি দাবি পূরণের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে।