প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি: শিক্ষার্থীরা যত টাকা পাবে 

চলতি বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ শিক্ষার্থী। তবে, এবার সব কোটা পূরণ হয়নি। মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। 

রবিবার (১২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বৃত্তির ফল প্রকাশ করা হয়। 

তবে, বৃত্তির টাকা কিভাবে পাওয়া যাবে, কারা কত টাকা করে পাবে, কতদিন পাবে এমন প্রশ্ন অনেকের। 

শিক্ষা বিভাগের তথ্য বলছে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে হলেও বৃত্তির টাকা দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। 

কারণ, পঞ্চম শ্রেণি শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। যখন বৃত্তি পায়, তখন তারা মাধ্যমিকে পড়া শুরু করে। নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই বৃত্তির টাকা পায়। এরপর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। এরপরে, ওই বৃত্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তির টাকা দেওয়া হয়। 

যত টাকা পাবে-

বর্তমানে প্রাথমিকে মেধা বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা করে পাবে। আর সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ এবার যাদের নাম বৃত্তির তালিকা আছে, তারা এই টাকা পাবে। 

বাড়বে বৃত্তির টাকার পরিমাণ-

জানা গেছে, ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে এই টাকার পরিমাণ বাড়ানো হবে। অর্থাৎ এ বছরের শেষে যে বৃত্তি পরীক্ষা হবে, তাতে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা বর্ধিত হারে টাকা পাবে। 

রবিবার বৃত্তি পরীক্ষার ফল উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। 

তিনি বলেন, ‘‘বৃত্তির সংখ্যা একই আছে (৮২ হাজার ৫০০টি)। তবে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মানে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।’’ 

জানা গেছে, সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, মেধাবৃত্তি দেওয়া হয় উপজেলা বা থানা অনুযায়ী। আর সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে যদের মধ্যে ২ জন বালক ও ২ জন বালিকা এবং একটি মেধার ভিত্তিতে।