চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৬২.২৫%। এ হার ২০০৭ সালের পর সবচেয়ে কম। ওই বছর পাসের হার ছিল ৫৮.৩৬%।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী পাস করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়।
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর মানবিক থেকে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের পাসের হার মাত্র ৪৮.৭৪%। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দেওয়া প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনের বেশি ফেল করেছে। ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন পাস করেছে।
এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগে ৮০.৬৪% এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৬৪.২৯% শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে এমন চিত্রের পেছনে মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ব্যর্থতা সামনে এসেছে।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং ফেল করেছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। গড় পাসের হার ৬২.২৫%।
মানবিকে প্রতি ১০০ জনে ৫১ জন ফেল
বিভাগভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিকের শিক্ষার্থীরা। এ বছর মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন।
বিজ্ঞানে পাসের হার ৮০.৬৪%
এবারও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন। গড় পাস ৮০.৬৪%। অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতি ১০০ জনের প্রায় ৮১ জনই পাস করেছে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস ৬৪.২৯%
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এবার পাসের হার ৬৪.২৯%। এ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৬ জন। পাস করেছে এক লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন।
সার্বিক বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মানবিকে এবার বিপর্যয় ঘটে গেছে। তারা ইংরেজি ও গণিতে খুব খারাপ করেছে। সেজন্য ফেলের সংখ্যাটাও মানবিকে বেশি। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ভালো করায় তাদের পাসের হার ও জিপিএ প্রাপ্তি ভালো।”