খুলনার দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৯ জন শিক্ষক মিলে পড়িয়েছেন এসএসসির ছয়জন শিক্ষার্থীকে। তবে পরীক্ষায় দুটি বিদ্যালয়ের কেউই পাস করেনি।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এ প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে মহানগরীর খালিশপুরের আসমা সরোয়ার ইসলামিক কেজি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
সোমাবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
এসএসসির ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তখন এই দুটি বিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার খুলনার ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০,৭৩৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৪২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জেলার এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। বিদ্যালয়টি নন-এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষকরা মনোযোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ান। এবার এসএসসি পরীক্ষায় দুজন অংশ নেয়। দুজনই ফেল করেছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন ছিল।”
ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ৪ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। সকলেই অকৃতকার্য হয়েছে। স্কুলটিতে শিক্ষক ৯ জন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম সরদার বলেন, “আজকাল ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে না। এ কারণেই তারা ফেল করেছে। বিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের কোনো ত্রুটি ছিল না। তারা লেখাপড়ায় চরম অমনোযোগী ছিল এবং অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে উদাসীন ছিলেন। শত চেষ্টা করেও তাদের পাস করানো সম্ভব হয়নি।”