স্কুলে ৩৮২ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫, শিক্ষাবোর্ডের শোকজ

নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের ৩৮২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের পেছনে প্রতিষ্ঠানটি কোনো 'নিয়মবহির্ভূত কৌশল' অবলম্বন করেছিল কি না, তা জানতে চেয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

গত রোববার পাঠানো ওই নোটিশে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তথ্য, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী, এসএসসির নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এবং চূড়ান্ত ফরম পূরণ করা শিক্ষার্থীদের তথ্যসহ সব প্র প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের এই পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক ইমন হোসেন জানান, নির্বাচনী পরীক্ষায় ৪৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও ১০১ জন অকৃতকার্য হওয়ায় বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ৩৮২ জন মূল পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং তারা সবাই জিপিএ-৫ পায়।

তবে টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, টেস্ট পরীক্ষায় এমনভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় যাতে কেবল জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্যরাই পাস করে এবং তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়। অবশ্য দুর্বল শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে ক্লাসের পর বাড়তি ক্লাস ও হোম ভিজিটসহ শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টার কথাও স্বীকার করেন তারা।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি থেকে এর আগের বছর ২০২৫ সালেও ৩২০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়ে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছিল। এবারও শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার ধারাবাহিকতায় অস্বাভাবিকতা বা অনিয়মের কোনো ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তদন্ত শুরু করেছে শিক্ষাবোর্ড।