চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে শুরু করা আন্দোলন গড়িয়েছে ষষ্ঠ দিনে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দাবি আদায়ে চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে দাবি আদায়ের পক্ষে স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন।
পাশাপাশি বেলা ১১টা থেকে চুয়েট শিক্ষক সমিতি উপাচার্য ভবনের সামনে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।
এদিকে, চুয়েটের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি দুপুরে পথনাট্যসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সদ্য সাবেক অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাসে ফিরে যাবেন না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
চুয়েট পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সায়েম বলেন, “অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম ৫৬ দিনে শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে চুয়েটকে আধুনিকায়নের চেষ্টা করেছেন। কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে অপসারণ করা হয়েছে। এটা অন্যয়। পুর্নবহাল না করা পর্যন্ত আমাদের দাবি চলতে থাকবে।”
এর আগে, শনিবার দুপুরে নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি ও চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। ফলে বন্ধ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে, গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
এর ধারাবাহিকতায় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।