আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ৬৪ বছর আগে ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের স্মরণে দিনটি প্রতিবছর শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
১৯৫৯ সালে পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইয়ুব খান শরীফ কমিশনের শিক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করেন। রিপোর্টে উচ্চশিক্ষা সীমিত করে কেবল ধনী পরিবারের সন্তানদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয় এবং মাতৃভাষা বাংলার চেয়ে উর্দুকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়। এতে সাধারণ মানুষ শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
আইয়ুব খান শরীফ কমিশনের বৈষম্যমূলক নীতির প্রতিবাদে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা রাজপথে নামে।
সেদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, বাবুল, নজরুল, গাফফার, জুবায়েরসহ আরও কয়েকজন ছাত্র। তাদের রক্তদানে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত সরকার শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
এই রক্তঝরা ইতিহাসকে স্মরণ করে দিনটি প্রতিবছর পালিত হচ্ছে। এ দিবসের শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন নানান কর্মসূচি পালন করে।



