Thursday, September 17, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাবনায় কন্যা শিশু হত্যা, প্রতিবেশী ব্যক্তি গ্রেপ্তার

নিখোঁজের ৭ দিন পর ওই শিশুর খণ্ডিত বস্তাবন্দি লাশ ডোবা থেকে উদ্ধার হয়

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে কন্যা শিশুকে (১০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিককে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে কীভাবে এবং কী কারণে ওই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে পুলিশ।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "মোস্তফাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এজন্য তাকে আটকের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কীভাবে, কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।"

ওসি জানান, নিহত শিশুর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ মামলা করেছিলেন। শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়েও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে, ভুক্তভোগী শিশুর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন, পাবনা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে শিশু শিক্ষার্থীরা “বেঁচে থাকার অধিকার চাই”, “আমার অধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র মানি না”, “শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়ন চাই” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ওই শিশুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। তারা বলেন, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

বক্তারা আরও বলেন, “বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিশু হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।”

প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ওই কন্যা শিশু। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

   

About

Popular Links

x