নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় দীর্ঘ এক মাসের সংকট কেটে শিল্পকারখানা ও গণপরিবহন খাতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে থাকার পর বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ৫০ পিএসআই (PSI) লাইনে এতদিন গ্যাসের চাপ মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআইয়ে নেমে এসেছিল। ফলে কারখানাগুলোর উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমে আসে এবং শ্রমিকদের অলস বসিয়ে রেখে লোকসান গুণতে হচ্ছিল মালিকদের। পরিস্থিতির সামাল দিতে অনেক কারখানা শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়। বিকেএমইএর পক্ষ থেকেও এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে বিশেষ সহায়তার দাবি জানানো হয়েছিল।
ব্যবসায়ীদের টানা দাবির মুখে সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ বাড়তে শুরু করে। ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং মিলসের প্রধান প্রকৌশলী ফজলুল হক তুষার জানান, এতদিন যেখানে ৫০ শতাংশ উৎপাদন হতো, সেখানে গ্যাসের চাপ বেড়ে মেইন লাইনে ৮ পিএসআই হওয়ায় বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিদিন ১৮ টন কাপড় প্রস্তুত করার সক্ষমতার বিপরীতে এখন প্রায় ১৩ টন কাপড় উৎপাদিত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ ১৫ পিএসআই পর্যন্ত উন্নীত করা হলে শতভাগ উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।
এদিকে শিল্প খাতের পাশাপাশি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ বাড়ায় সিএনজিচালিত গণপরিবহন খাতেও গতি ফিরেছে। পূর্বে চাপ কম থাকায় চালকদের বারবার রিফুয়েলিংয়ের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো, যা এখন অনেকাংশে কমে এসেছে।
বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক গ্যাসের চাপ বৃদ্ধির পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কারখানাগুলোতে উৎপাদন বাড়লেও তা এখনো শতভাগে পৌঁছায়নি। শিল্প খাতের চাকা পুরোপুরি সচল রাখতে গ্যাসের চাপ আরও বাড়ানো এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।



