বহিরাগতদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীর

ইসলামি মহাসম্মেলনে যোগ দিতে আসা বহিরাগতদের দ্বারা হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে এ সম্মেলন শুরু হয়। আয়োজন করেছে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ। সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যায় আলেম-ওলামা জড়ো হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শর্মিলা শুরোভি পুষ্পিতা নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “ক্যাম্পাসের রাস্তা বন্ধ করে, ‘মেয়েরা এখানে কী করছে’ বলার ধৃষ্টতা বিরক্তিকর। আমি মেট্রো থেকে নেমে হেঁটে নিজের ডিপার্টমেন্ট পর্যন্ত যেতে পারছিলাম না।”

ঢাবির আরেক শিক্ষার্থী আনিয়া ফাহমিন তার ফেসবুকে লিখেছেন, “ফ্যাকাল্টির সামনে আসতে-যেতে মেয়েদের হ্যারাস করার পরও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে না কীভাবে বুঝলাম না।”

তার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে নুজিয়া হাসিন রাশা নামের একজন লিখেছেন, “রাস্তায় ধরে ধরে ছেলে-মেয়েদের জামা কাপড় নিয়ে মোরাল পুলিশিং করছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি, কিন্তু এত বড় ভিড় সামলানো চ্যালেঞ্জিং। গত রাত থেকে আমরা ক্যাম্পাসের আশেপাশে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি, তবুও পরিস্থিতি অমীমাংসিত রয়ে গেছে।”

এদিকে, সন্মেলনে অংশ দিতে ভোর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় জমায়েত হতে শুরু করে আলেম-ওলামারা। সম্মেলনস্থলের আশপাশের বিভিন্ন সড়কে গাড়ি রাখায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ। কিছু কিছু সড়কে অনেকক্ষণ পরপর একটু একটু করে সামনে এগুতে পারছে গাড়িগুলো। শাহবাগে গাড়ি চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।

উল্লেখ্য, তাবলিগের দুই পক্ষের জন্য ২০১৯ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবার দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমা করেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। এবার তারা প্রথম পর্বে ইজতেমা করার দাবি জানান। তারই বিরোধিতা করে এই মহাসম্মেলনের ডাক দেন কওমি মাদরাসাভিত্তিক আলেমরা।