বর্ষা উৎসবে বক্তারা: দেশকে মরুভূমি হওয়া থেকে রক্ষা করছে বর্ষাকাল

আজ পহেলা আষাঢ়। প্রকৃতির সাজ আর বৃষ্টি-বাদলের এই দিনটিকে বরণ করে নিতে রাজধানীতে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ষা উৎসব ১৪৩৩। 

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেছেন, “বর্ষা শুধু বৃষ্টি দেয় তা নয়, বর্ষা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। সুজলা-সুফলা, শষ্য-শ্যামলা, নদী-খালবিলের এই দেশকে মরুভূমি হওয়া থেকে রক্ষা করছে বর্ষাকাল। তাই সবাই বসন্তকালকে প্রকৃতির রাজা বললেও আমি বলি প্রকৃতির রাজা হচ্ছে বর্ষাকাল।” 

সোমবার (১৫ জুন) ভোর সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত বর্ষা উৎসবে এ কথা বলেন তিনি। 

“আষাঢ়ের গর্জনে নবযাত্রার ডাক, বৈষম্য বিনাশে মানুষ জেগে থাক” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতিবারের ন্যয় এবারো  বর্ষা উৎসবের আয়োজন করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ। 

অনু্ষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলার ঋতুচক্রে গ্রীষ্মের শুষ্ক ও রুক্ষ প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে বর্ষা। নবজাগরণ, সজীবতা ও জীবনের পুনর্সৃজনের প্রতীক এই বর্ষা। 

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সভাপতি নূর মোহাম্মদ তালুকদার। তিনি তার বক্তব্যে প্রকৃতি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

আরো আলোচনা করেন উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিদ্দিক রানা, কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, বর্ষা উৎসব-১৪৩৩ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন, উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগ প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানের বর্ষাকথন পাঠ করেন বর্ষা উৎসব-১৪৩৩ উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব শেখ আনিসুর রহমান। 
 
বাংলার বর্ষা, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার সম্মিলনে আয়োজিত এই উৎসবে সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও আলোচনা পর্বের মধ্য দিয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। 

রাগ সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী পরিবেশনার পর নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি করে উদীচীসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী-কর্মী-সংগঠকরা। 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সৈয়দা অনন্যা রহমান ও শিখা সেনগুপ্তা। প্রতিটি পরিবেশনার পরে অতিথি এবং শিল্পীদের নানান দেশীয় গাছ উপহার দেয় সংগঠনটি। 

 

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বর্ষা উৎসব

একই দিনে, পরিবেশ সুরক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয় বর্ষা উৎসব। 

আষাঢ়ের প্রথম সকালে গান, আবৃত্তি, দলীয় নৃত্যের পাশাপাশি গাছের চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদ বাংলা পঞ্জিকার দ্বিতীয় ঋতুকে বরণ করে নেয়। 

রাগ ‘জয় জয়ন্তী’ পরিবেশনায় বর্ষা উৎসবের সূচনা হয়। নৃত্যশিল্পী অধ্যাপক নিগার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন আবৃত্তি শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা আশরাফুল আলম এবং বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান। 

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। 


আষাঢ়ের প্রথম সকালে উদীচীর বর্ষাবরণ

গানের সুর, নৃত্য আর কবিতার আবহে আষাঢ়ের প্রথম সকালে রাজধানীতে বর্ষা উৎসব উদযাপন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। 

বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য ছিল “আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে”। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল বর্ষার গান, কবিতা আর নাচের পরিবেশনা। 

রাগ ‘মিয়া কি মল্লার’ এর সুরমূর্ছনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

কামরুল হাসান ফেরদৌসের পরিচালনায় নৃত্য, সঙ্গীত, গান, বর্ষাকথন ও আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বর্ষাকথন উপস্থাপন ও পাঠ করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক একরাম হোসেন।

বর্ষাকথন ও আলোচনা পর্বে অংশ নেন লেখক, গবেষক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নঈম ওয়ারা, উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মৌমিতা জান্নাত, সজীব তানভীর, রুমি দে এবং আজাদ অরণ্য। 

বর্ষার আগমন কেবল ঋতু পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি বাংলার জীবনের এক পুনর্জাগরণ। প্রকৃতি খুঁজে পায় তার হারানো রং।