অবসর কাটাতে নেপাল গিয়ে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশের পরিচিত সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান ও তার সঙ্গীরা। মোদি খোলার আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ি ধসে বিরেঠাঁটি-ঘান্দ্রুক সড়কের একাধিক অংশ নিশ্চিহ্ন ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় তাদের ঢাকায় ফেরার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত অন্নপূর্ণা অঞ্চলের পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুকে বর্তমানে তারা অবস্থান করছেন। নেপালের রাসুয়া-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকার মূল প্রাকৃতিক বিপর্যয় কেন্দ্র থেকে তাদের বর্তমান দূরত্বের ব্যবধান প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার। সেই এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ না ঘটলেও প্রধান সড়ক ধসে পড়ায় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে।
মঙ্গলবার ঘান্দ্রুকে পৌঁছান তাসরিফ খান। পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার তাদের ফিরে আসার কথা থাকলেও বের হতে কিছুটা দেরি হওয়ায় গাইড বড় ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়ে যাত্রা স্থগিত করতে বলেন। পরবর্তীতে জানা যায়, যে পথ দিয়ে তাদের ফেরার কথা ছিল, সময়মতো বের হলে সেই ধসে পড়া পথের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ার চরম ঝুঁকি ছিল।
বর্তমানে বিকল্প পথের খোঁজ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে দ্রুত স্বাভাবিক সড়কপথ সচল না হলে নদীর পাশ দিয়ে টানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিপজ্জনক পাহাড়ি ঢলের মধ্যে ট্রেকিং করে বের হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। পরিস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
আটকে পড়া এই গায়ক নগদ অর্থসংকটের কথা জানিয়েছেন। তার কাছে অল্প কিছু নেপালি রুপি এবং প্রায় ১০০ ডলার অবশিষ্ট রয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ সীমিত থাকায় এবং নতুন করে দেশে ফেরার বিমানের টিকিট না পাওয়ায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এছাড়া পাহাড়ি এই এলাকাটিতে তাসরিফ খানের দল ছাড়াও শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া রোমান্টিক ঘরানার গান ‘বৃষ্টি’র প্রচার এবং নিয়মিত মঞ্চ পরিবেশনার পর টানা কাজের ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিতে ২০ আগস্ট নেপাল সফরে যান তিনি। দেশে ফিরে রক ঘরানার নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র চিত্রায়নের কাজ শুরু করার কথা ছিল। তবে বর্তমানে সব কাজ স্থগিত রেখে নিরাপদে দেশে ফেরার আকুলতা প্রকাশ করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তাসরিফ খান।