ইরানে পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনি নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে বিনোদন জগতের অনেক বিখ্যাত তারকাই ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
এবার সেই দলে যোগ দিলেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অন্যান্য অনেক নারীর মতোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিক্ষোভরত নারীদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী।
ইরানের কঠোর পোশাকবিধি অমান্য করায় গ্রেপ্তার করা হয় মাহসা আমিনিকে। গ্রেপ্তারের পর ১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর থেকে দেশটির পোশাকবিধির বিরোধিতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ইরানে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। চলমান প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের জ্বালানো আগুনে অনেক নারী তাদের হিজাব পোড়াচ্ছেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সামনে চুল খুলে নাচছেন, যা শাসকদের প্রতি প্রকাশ্য অবাধ্যতার সুনির্দিষ্ট চিত্র হাজির করছে। প্রতিদিনই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে।
শুক্রবার (৭ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, ইরানের কঠোর পোশাকবিধি অনুযায়ী হিজাব না পরায় মাহসা আমিনিকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে ইরানসহ সারা বিশ্বের নারীরা জেগে উঠছেন। তারা আওয়াজ তুল, প্রকাশ্যে নিজেদের চুল কেটে ফেলে কিংবা আরও নানাভাবে প্রতিবাদ করছেন। যুগ যুগ ধরে জোর করে চুপ করিয়ে রাখার পর যে কণ্ঠ জেগে ওঠে, তা একদম আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়। তারা (ইরানি নারী) থামবে না। তাদের থামানো যাবে না।
ইরানের বিক্ষোভরত নারীদের উদ্দেশে এই অভিনেত্রী বলেন, আমি আপনাদের সাহস এবং অভিপ্রায়ের কথা জেনে বিস্মিত। আক্ষরিকভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং নিজের অধিকারের জন্য লড়াই করে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া সহজ না। তবে আপনাদের মতো সাহসী নারীরা প্রতিদিন এ কাজ করে চলেছেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ, দেশটির ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে প্রিয়াঙ্কা বলেন, এই আন্দোলনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিশ্চিতের জন্য বিক্ষোভরত নারীদের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যা বুঝতে হবে। এরপর আমাদের উচিত সম্মিলিতভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো। সেই সঙ্গে আমাদের চারপাশের অন্যরাও যেন এতে যোগ দেয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দিনশেষে প্রতিবাদী নারীদের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
সব শেষে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, এই আন্দোলনে আপনিও যোগ দিন এবং সোচ্চার হন। এই কণ্ঠগুলোকে আর নীরব থাকতে বাধ্য করা যাবে না। জিন, জিয়ান, আজাদি... নারী, জীবন, স্বাধীনতা- আমি তোমাদের পাশে আছি।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনি ইরানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজ থেকে তেহরানে গিয়েছিলেন। সেখানে হিজাব দিয়ে মাথা পুরোপুরি না ঢাকায় আইন ভাঙার অভিযোগে দেশটির নীতি পুলিশ তাকে আটক করে। গ্রেপ্তারের তিন দিন পর তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
পুলিশ বলছে, বন্দিশালায় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আমিনি পড়ে যান। কিন্তু তার পরিবার পুলিশের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নীতি পুলিশের কর্মকর্তারা তাকে পিটিয়েছিল। হাসপাতালে তিন দিন কোমায় থাকার পর আমিনির মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। মানুষ রাস্তায় নেমে হিজাব আইনের বিরোধিতা, নারী অধিকারের দাবিতে স্লোগান দেয়।
২০১৯ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভের পর এটিই দেশটির সরকারবিরোধী সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।